Home আজকের পত্রিকা

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি মামাবাড়ির আবদার

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে বিএনপির দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে কার কাছে দায়িত্ব দেবেন? দেশে কি কোনো সংবিধান থাকবে না, আইন-কানুন থাকবে না? এটা যেন তাদের মামা বাড়ির পুরনো আবদার। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ১১তম সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না। বিদেশি চাপের কাছে মাথা নত করবো না। অন্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, আমাদের দেশেও সেভাবেই নির্বাচন হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, চলমান অধিবেশন শেষে অক্টোবরে আরেকটি অধিবেশন বসবে। সেই অধিবেশন সম্ভবত মধ্য অক্টোবরের মধ্যেই শেষ হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আর সংসদ বসবে না। অক্টোবরের অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত হবে। এরপর মন্ত্রীরা কেবল রুটিন ওয়ার্ক করবেন। আর সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙবেও না, সংসদের কোনো কার্যকারিতাও থাকবে না, নির্বাচনকালে সংসদ বসবেও না। দেশে যদি যুদ্ধপরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেটা ভিন্ন কথা। তবে আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। আলাপ-আলোচনা করেই সব কিছুর সমাধান চাই। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গেই যুদ্ধে জড়াইনি।

বিদেশি চাপের কাছে মাথা নত করব না:জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাতিসংঘে যাওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতিসংঘ যদি তাকে আমন্ত্রণ করে, তারা যদি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করেন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। তারা তো জাতিসংঘে অবিরাম অভিযোগ দিয়েই যাচ্ছে। দেশের বিরুদ্ধে নালিশ করছে, সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করছে, সেসব নালিশের ব্যাপারে তাদের মতামত কী, সামনা-সামনি তাদের পলিটিক্যাল উইং আলাপ করতে পারে বলে অনুমান করছি। সেটা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। আমাদের শক্তির উত্স এদেশের জনগণ। নির্বাচনে জনগণ পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে। আমাদের সিদ্ধান্ত, কোনো সংবিধানবহির্ভূত ‘প্রেসারের’ বা চাপের কাছে আমরা মাথানত করবো না। আর নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপিকে তো আমন্ত্রণ করিনি, তারা তো সংসদে নেই।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি প্রসঙ্গে দলটির নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এদেশের জনগণ যদি উতলা হতো, তাহলে গ্রেফতারের পরেই বিস্ফোরণ ঘটে যেত। একটা ছোট আন্দোলনও দেখলাম না। তারা সর্বাত্মক আন্দোলন করবে এটা লোকে বিশ্বাস করে না। তাদের নেতা-কর্মীদের মধ্যেই ঐক্য নেই। একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করে না। একজন আরেকজনকে বলে সরকারের দালাল। তারা নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ নয়, সর্বাত্মক আন্দোলন করবে কিভাবে? তিনি বলেন, জনগণ এখন নির্বাচনী মুডে আছে। সংবিধানের বাইরে বিদেশি চাপের কাছে আমরা নতি স্বীকার করবো না। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্দোলন করেন, জনগণকে নিয়ে করেন। আন্দোলন অহিংস করলে শান্তি। আর যদি সহিংস হয় তাহলে জনগণকে নিয়ে আমরা প্রতিহত করবো।

সড়ক পরিবহন আইন সংসদে উঠছে আজ:ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ আজ বৃহস্পতিবার সংসদে তোলা হবে। মন্ত্রী হিসেবে আইনটি আমি সংসদে পেশ করবো। এরপর এটি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে যাবে। তারা যাচাই-বাছাই করবেন। দশম জাতীয় সংসদের একটি সংক্ষিপ্ত অধিবেশন আগামী অক্টোবরে হবে। সড়ক নিরাপত্তা আইনটি ওই অধিবেশনে পাস হবে ইনশাল্লাহ।’

মন্ত্রী আরো বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন, সব দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় যাবেন, সাংবাদিকরা যাবেন। ঢাকায় প্রবেশ এবং বের হওয়ার গেটওয়ে গাজীপুর। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ওই রাস্তায় দুর্ভোগ এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে খোঁড়াখুড়ি বন্ধ থাকলেও প্রকল্পের অন্য কাজ চলবে বলে জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।

শিশুদেরও হেলমেট পরতে হবে:রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেলে চড়া শিশুদেরও হেলমেট পরা নিশ্চিত করতে সভায় নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। ওবায়দুল কাদের জানান, রাজউক থেকে ঢাকার পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে বাস ডিপো করতে ডিটিসিএ-এর নামে সাত একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে আমার গাড়ির বিরুদ্ধেও মামলা দিবেন, জরিমানা করবেন। আর কোনো ভিআইপি আইন মানে না, সেটা দেখবেন। এটা স্ট্রিক্টলি দেখতে হবে।’

ট্রাফিক বিভাগ ও হাইওয়ে পুলিশ বিভাগের উদ্দেশ্যে সেতুমন্ত্রী বলেন, জোরালোভাবে কার্যক্রম চালাতে হবে। হাইওয়েতে থ্রি হুইলার চলবে না, তারপরেও চলছে। মহাসড়কে ৮০ এর উপরে গতি থাকবে না, তারপরেও স্পিডে ট্রাক চলে কিভাবে? তাহলে নির্দেশনার কার্যকারিতা কি?

ডা. এনামুর রহমান এমপি, নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি, সাগুফতা ইয়াসমিন এমপি, রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিউর রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা সভায় অংশ নেন। ডিটিসিএ-এর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রকিবুর রহমান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।