Bangladesh News24

সব

ইত্তেফাক

আদালত থেকে বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পেতে পারেন খালেদা জিয়া

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়া-না পাওয়া আদালতের বিষয়। তাকে আলাদাতের মাধ্যমে মুক্তি পেতে হবে। আর যদি দ্রুত চায় তাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবে। এক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই। আমরা তো খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার করিনি বা মামলা করিনি। সে গ্রেপ্তার হয়েছে এতিমের টাকা চুরি করে। আর মামলাও দিয়েছে তাঁরই (খালেদা জিয়া) পেয়ারের ফখরুদ্দিন-ইয়াজ উদ্দিন-মঈন উদ্দীনরা। বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে দাওয়াত কিংবা তাদের সঙ্গে আর কখনো সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন তিনি।

গতকাল রবিবার বিকালে গণভবনে জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। নেপালে সদ্য অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলন যোগদানের অর্জন ও সফলতা তুলে ধরতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। লিখিত বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

১০ বছর ধরে খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলাটি চলার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যদি বিচার বিভাগের উপর হস্তক্ষেপ করতাম, করতে চাইতাম, তাহলে কি ১০ বছর লাগত? এছাড়া ১৫৪ বার তারিখ পরিবর্তন হয়েছে, সে যায়ই না কোর্টে। আজকে যদি অন্য কেউ এটা করত, তাহলে কী লিখতেন আপনারা? এখানে কিছু লোক থাকবে তারা চুরি করলেও ভালো, ডাকাতি করলেও ভালো, মানুষ খুন করলেও ভালো, তাদের কোনো কিছুতেই দোষ দেখে না। তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে, হুঙ্কার দিচ্ছে খুব ভাল কথা। আন্দোলন করুক। আবার বলছে নির্বাচন করবে না। কে নির্বাচন করবে-না করবে, সেটা সেই দলের সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কী করার আছে? তাদের দল যদি মনে করে (নির্বাচন) করবে না, করবে না। যদি মনে করে করবে, করবে। এটা বিএনপির সিদ্ধান্ত, তারা কী করবে, না করবে। এখানে তো আমাদের বাধাও দেওয়ার কিছু নেই বা দাওয়াত দেওয়ারও কিছু নেই। আমরা কারো বাধা দেবো না, দাওয়াতও দেবো না। আর সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নেই। কেউই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না ইনশাল্লাহ। আর নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।

সংলাপের প্রশ্নই ওঠে না

২০১৪ সালে খালেদা জিয়ার ছেলের মৃত্যুর পর সান্ত্বনা জানাতে গিয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে আসার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তার সঙ্গে আর কখনও কোনো আলোচনায় বসতে আগ্রহের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তাদের (বিএনপি) সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছিলাম। ফোনও করেছিলাম, আপনারা জানেন- ধরেননি (খালেদা জিয়া)। খালেদা জিয়ার ছেলে মারা যাওয়ার পর আমি গেলাম, আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে ঢুকতে দিল না। সেদিন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর তো ওদের সঙ্গে আমি অন্তত বসব না। আর কোনো আলোচনা হবে না। প্রশ্নই ওঠে না। আপনারা যে যাই বলেন। ক্ষমতাই থাকি, না থাকি, আমার কিচ্ছু আসে যায় না। আমার তো একটা আত্মসম্মান বোধ আছে। আমি বারবার অপমানিত হতে কেন যাব?

ইভিএমের সীমিত ব্যবহারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী

আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইভিএম হলো প্রযুক্তির একটা অংশ। এটার সুফল উন্নত বিশ্ব নিচ্ছে। কিছুটা হলেও তো এই প্রযুক্তির ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বিএনপি ভোটে কারচুপি করতে পারবে না বলেই ইভিএমের বিরোধিতা করছে। তিনি বলেন, আমি সব সময় ইভিএমের পক্ষে ছিলাম এবং আছি। তবে এটা তাড়াহুড়া করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। কারণ এটা প্র্যাকটিসের ব্যাপার। আমাদের পরীক্ষামূলক করে দেখতে হবে। তিনি বলেন, ইভিএমে ভোট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই হয়। আমরা চাচ্ছি, কিছু কিছু জায়গায় শুরু হোক, সীমিত আকারে এটা দেখুক। প্রযুক্তির যদি কোনো সিস্টেম লস হয় কি না, সেটা দেখা যাক। সেটা হলে সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে। শেখ হাসিনা বলেন, কারচুপি করতে পারবে না বলে বিএনপি ইভিএমে আপত্তি জানাচ্ছে। কারণ তাদের জন্মটাই কারচুপির মাধ্যমে। তারা আবার কারচুপির কথা বলে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবচেয়ে সুবিধা হল, যেই মানুষটা যাচ্ছে, একটা টিপ দিয়ে ভোট দিয়ে আসছে এবং সাথে সাথে রেজাল্টটা পেয়ে যাচ্ছে।’ নির্বাচন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি আমলে ভোট কারচুপির কথাও বলেন শেখ হাসিনা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটে যে কারচুপির রাজনীতি, সেটা তো জিয়াউর রহমানই প্রথম এনেছে এদেশে। কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, সেটাকে বৈধ করতে চেয়েছে সে। আজকে বিএনপি যখন সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে, তারা তাদের জন্মস্থানটা খোঁজ করুক। তাদের জন্মের সূত্রটা, লগ্নটা মনে করুক। খালেদা জিয়ার আমলে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটের কথা যদি কারও মনে থাকে, তারা কী করেছিল। ঘোষণা দিয়েছিল দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী। ১৫ দিনও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি।

মধ্যবর্তী নির্বাচন করতে গেলে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হয়

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন করতে গেলে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হয় এবং ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হবে সংসদ বহাল রেখে। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন আগ আগে যে সময় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে ওই সময় সংসদ অধিবেশন বসবে না। এটা সংবিধানে আছে। তবে যদি কোন যুদ্ধ লাগে সেক্ষেত্রে সংসদের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি অধিবেশন ডাকতে পারেন। এছাড়া অন্য সময় ৬০ দিনের মধ্যে সংসদ বসার বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া বৃটেনসহ সংসদীয় গন্ত্রতান্ত্রিক দেশগুলোতে যেভাবে নির্বাচন হয় সেভাবেই আগামী নির্বাচন হবে।

মিয়ানমার জঘন্য কাজ করেছে

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রকাশিত একটি বইয়ে ভুয়া ছবি প্রকাশ করে রোহিঙ্গাদের নিয়ে অপপ্রচার চালানোর ঘটনাকে জঘন্য কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার নিজেরাই নিজেদের সম্মানটা খারাপ করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে নিজেরাই নিজেদের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।

এদিকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বইয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভুয়া ছবি দিয়ে অপপ্রচার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বাংলাদেশেও এ ধরনের ঘটনা ঘটার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, তারা ছবিটা নিয়ে যেটা করল, এটা আমি মনে করিয়ে দিতে চাই, আমাদের এখানেও কিন্তু এরকম হয়েছে। প্রশ্নটা হল এরা শিখল কার কাছ থেকে। বিএনপি-জামায়াতের কাছ থেকে কি ছবি বিকৃতি শিখেছে মিয়ানমার?

শেখ হাসিনার ডেল্টা প্ল্যান ২১০০

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ১০০ বছরে কোন পর্যায়ে যাবে সেই পরিকল্পনা চলছে।’ তিনি বলেন, ‘২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সাল থেকে কী করবো, তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা দিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘দিনবদলের সনদ চলছে। কাজ চলছে। তা অব্যাহত থাকবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘২১০০ সালে বাংলাদেশকে কীভাবে দেখতে চাই, বদ্বীপকে বাঁচিয়ে রাখা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য অভিঘাত থেকে বাঁচাতে এই প্ল্যান। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতেই ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়ন হাতে নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে কাজ চলছে।’

জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নেই

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নেই। তবে লক্ষ্য ও পরিকল্পনা গ্রহণে কাজ করে ফেলছি। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছাড়া আসলে দেশের উন্নয়ন হবে না। সে লক্ষ্যে ২০১০ থেকে ২০, ২০২১ থেকে ৪১ সাল পর্যন্ত করণীয় অনেকদূর এগিয়েছে। ৪১ থেকে ১০০ পর্যন্ত কী হবে সেই পরিকল্পনাও দিয়ে যাচ্ছি। এ নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। দেশ এগিয়ে যাবে। বদ্বীপকে রক্ষা ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতেই ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ হাতে নেওয়া হচ্ছে। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নই আমার ইচ্ছা। আর কিছু চাই না তো।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতি আমার আশ্বাস-বিশ্বাস আছে। একটা টানা সাড়ে ৯ বছর ক্ষমতায় থেকেছি বলেই উন্নয়ন দৃশ্যমান। জনগণ সুফল ভোগ করছে। জনগণের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দেশবাসী আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দেবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয়। তবে এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলার ক্ষমতা জনগণের আছে।

মান্না জুড়ে দেয় কান্না

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি জোট গঠনের বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ওই জোটকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি জোটের শরিকদের সম্পর্কে সরস মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ঐক্য ভালো, সাধুবাদ জানাই। একটা ভালো জোট হোক, আমরা নির্বাচনে কনটেস্ট করি। এসময় নানা কথার সূত্র ধরে ওই জোটের শরিক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মান্না এক সময় আমাদের দলে (আওয়ামী লীগ) ছিলেন। তিনি বেশ ভালো লেখেন। যখন আওয়ামী লীগে এলেন, আমি বললাম যখন অন্য দল করতেন তখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বেশি বেশি লিখতেন। তো এখন আমাদের পক্ষেও কিছু লেখেন। এ কথা শুনেই মান্না, জুড়ে দেয় কান্না।’ এসময় বিকল্পধারা সভাপতি বি. চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব সম্পর্কেও সরস মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল হোসেনরা কী আদৌ নির্বাচন চান? দেশে একটা শ্রেণী আছে যারা অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে চায়। এতে তারা একটা পতাকা পেতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, ড. কামাল হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার বিরোধীতা করে অনেক বড় বড় কথা বলেন। অথচ তিনি নিজেই আমার বাবার ছেড়ে দেওয়া আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। বদরুদ্দোজা চৌধুরী খালেদা জিয়া অনেক সম্মান দেন। এ কারণে তাকে বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে রেললাইন পর্যন্ত দৌঁড়াতে হয়েছিল।

উত্তরপাড়ার দিকে তাকিয়ে থাকে অনেকের

ড. কামাল হোসেন বলেছেন আদৌ নির্বাচন হবে না। এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তার মানে ওনারা বসেই আছেন, উত্তর পাড়ার দিকে তাকিয়ে বসে থাকতে পারে। আমাদের দেশে তো অনেকেই আছে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাদের পছন্দ নয়। একটি অসাংবিধানিক সরকার এলে তারা পতাকা পাবেন, সুযোগ-সুবিধা পাবেন। সেদিকেই তো তারা চেয়ে থাকেন। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনে বিশ্বাস করি। ড. কামাল সাহেবদেরও আন্দোলন করতে হবে। আর সেই আন্দোলন করে যদি উনি সফল হন, আর যদি উত্তরপাড়া থেকে কেউ আসে তাহলে উনারা সাফল্যে অর্জন করবেন- এটাই তো? আসলে উনারা তো সুষ্ঠু গণতন্ত্র চান না। গণতন্ত্রটা হচ্ছে উনাদের বলার জন্য। আর প্রাকটিসটা হচ্ছে অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুব নামিদামি, অনেক ভয়েস, তাদের আওয়াজটা একটু বেশি শোনা যায়। কারণ খালি কলসী বাজে বেশি, এটাই হলো বাস্তবতা। তবু আমি চাই যে, রাজনৈতিক জোট হোক, নির্বাচনে সবাই আসুক। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। তিনি বলেন. এই দেশের মানুষ এখন জানে, একটা গণতান্ত্রিক সরকার থাকলে পরে দেশের যে উন্নতিটা হয়, এটা মানুষ খুব ভালভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছে। সেই সচেতনাটও আছে। তারপরও ষড়যন্ত্র আছে, ষড়যন্ত্র থাকবে। যারা আমার বাবাকেই (জাতির পিতা) খুন করতে পারে, আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করে সফল হয় নাই। হয়তো একদিন সফল হতেও পারে। এটা আমি সব সময় জানি। আর এটা জেনেই আমি বাংলাদেশে এসেছি। এটা জেনেই আমি রাজনীতি করে যাচ্ছি। আর এটা জেনেই কিন্তু আজকে এই উন্নয়নটা করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভয়ে ভীত হয়ে ঘরে বসে থাকলে হবে না। আমাকে কাজ করতে হবে। আর মৃত্যু এটা তো উপরে আল্লাহর হাতে। আল্লাহ যখন লিখবে তখন মৃত্যু হবে। প্লেনের নাটবল্টু তো খুলে গিয়েছিল, তাও তো বেঁচে গেছি। আল্লাহ তো আমাকে বাঁচিয়ে দিচ্ছেন বারবার। নিশ্চয়ই একটা কাজ দেয় এইটুকু শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকতে হবে। তাই যতক্ষণ শ্বাস আছে ততক্ষণ দেশের জন্য কাজ করে যাবো। দেশকে উন্নতির শিখড়ে নিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কোন ম্যাজিক জানি না।

জোটগতভাবে নির্বাচন করবে আওয়ামী লীগ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশগ্রহণ করবে আওয়ামী লীগ। এ ব্যাপারে আমাদের দলের সেক্রেটারী যেটা বলেছে তা ঠিক আছে। প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শনিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেন, আওয়ামী লীগ জোটের শরিকদের জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

পাকিস্তানের উন্নয়নে সহযোগিতা চাইলে অবশ্যই দেবো

‘পাকিস্তানের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে দেশটির সুশীল সমাজের নেতারা বলছেন, বাংলাদেশকে ফলো করতে’ একজন সাংবাদিক এ বিষয়টি তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের জনগণের উন্নয়নে সহযোগিতা চাইলে অবশ্যই সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, ইমরান খান তো ক্রিকেট খেলায় অনেক ছক্কা মেরেছেন, এখন রাজনীতিতে কেমন ছক্কা মারে দেখা যাক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেপালে ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রী বদল হচ্ছিল। এ কারণে দুই বছরের আগে প্রধানমন্ত্রীকে সরানো যাবে এমন বিধান চালু করেছে দলটি।

বিমসটেকে বাংলাদেশ প্রশংসিত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেপালে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং ভুটানের সরকার প্রধান দাশো শেরিং ওয়াংচুকের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বিক বিবেচনায় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন এবং এর অব্যবহিত পূর্বে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সভা বাংলাদেশের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নেপালের কাঠমুন্ডুতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে আমার অংশগ্রহণ এবং শীর্ষ সম্মেলনের পূর্বের সভাসমূহে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমসটেক অঞ্চলের দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত, সন্ত্রাসসহ অন্যান্য সমস্যাকে যৌথভাবে মোকাবেলা করার আহ্বান তিনি তার বক্তৃতায় জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সামষ্টিক উন্নয়নের জন্য মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদ্যুত্ ক্ষেত্রে সহায়তা, পুঁজি বিনিয়োগের উপরও জোর দিই এবং এ সকল প্রক্রিয়া জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল আইনি কাঠামো ও অন্যান্য আইনি দলিল দ্রুত সম্পন্ন করার উপর জোর দিই। বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর বিদ্যুত্ গ্রিডের মধ্যে আন্তঃসংযোগ চালুর বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে বিমসটেক অঞ্চলে বিদ্যুত্ চলাচলের ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করি।

বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যে কোনো দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জন্য আদর্শ হতে পারে বলে তিনি (নরেন্দ্র মোদী) মন্তব্য করেন। তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতের ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানাই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে বিমসটেক একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে।’

সাংবাদিক সম্মেলনে শেখ হাসিনার মঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ।

ড. কামাল হোসেন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যিনি নিজেকে সংবিধান প্রণেতা বলেন, এখন দেখি তিনি সেই সংবিধানও মানতে চান না। তিনি যখন গরম বক্তৃতা দেবেন তখন ধরে নেবেন যে উনার প্লেন রেডি। ড. কামালের পকেটে সবসময় টিকিট থাকে। যাতে কিছু একটা হলেই বিমানে উঠে বিদেশ পাড়ি দিতে পারে।’

কাদের সিদ্দিকী সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনিও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ’৯৬ সালের পার্লামেন্টে হঠাত্ তার মাথায় কে কী ঢুকালো জানি না। এই মাকাল ফলটা তাকে কে দেখালো, আমরা জানি না। তিনি রিজাইন করে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে এলেন যে, আওয়ামী লীগের এমপিরা তাকে ভোট দেবেন। বিএনপির এমপিরা তাকে ভোট দেবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেই আশা নিয়ে পদত্যাগ করলেন। কিন্তু নির্বাচন করে আর জিতে আসতে পারলেন না।’

জাসদ একাংশের সভাপতি আ স ম রব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন অনেকেই তাকে বলতেন, ‘অসময়ে নীরব, সময়ে সরব, তার নাম আ স ম রব’। অবশ্য তিনি ছাত্রলীগও করেছেন। তিনি এখন সরব হচ্ছেন খুবই ভালো কথা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাই হোক, তাদের নেতৃত্বে জোট হয়েছে থাক, অন্তত কনটেস্ট হবে।

পাঠকের মতামত...
image-id-784411

ইত্তেফাক

কোটা বাতিলের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে সচিব কমিটির সুপারিশ অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী...
image-id-784408

কালের কণ্ঠ

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে...
image-id-784404

সমকাল

একক নয়, যৌথ নেতৃত্ব
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চলতি মাসেই আত্মপ্রকাশ...
image-id-784366

বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাংলাদেশে এখনো জঙ্গি হামলার ঝুঁকি
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরেও বাংলাদেশে এখনো জঙ্গি হামলার...
© Copyright Bangladesh News24 2008 - 2018
Email: info@bdnews24us.com / domainhosting24@gmail.com