অতিরিক্ত রসুন খাওয়ার যত বিপদ

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২১ / ১১:৫৫পূর্বাহ্ণ
অতিরিক্ত রসুন খাওয়ার যত বিপদ

স্বাস্থ্যরক্ষায় রসুন খাওয়ার চল বহু দিনের। বিশেষ করে করোনার সময় তো সেই প্রবণতা আরও বেড়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানীরা জানালেন হৃদরোগ প্রতিরোধও এর ভূমিকা রয়েছে। তাদের দাবি, কাঁচা রসুন খেলে হার্ট অনেক বেশি সুস্থ থাকে। রক্তচাপকেও বশে রাখা যায়। অনেকেই সকালে খালি পেটে কাঁচা রসুন খাওয়াটা ভীষণ স্বাস্থ্যকর / অস্বাস্থ্যকর মনে করে। কিন্তু খালি পেটে রসুন খাওয়া দেহের জন্য ভীষণ স্বাস্থ্যকর। আবার অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ক্ষতি হতে পারে।

খাবারের স্বাদ বাড়াতে রসুনের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। তাছাড়া এটি ওষুধি গুণে ভরপুর একটি মসলা। যা বিভিন্ন রোগ থেকেও মুক্তি দেয়। তবে মসলা হিসেবে বহুল ব্যবহৃত রসুনের অতিরিক্ত ব্যবহারেও রয়েছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অতিরিক্ত রসুন খেলে ক্ষতি হতে পারে আপনার।

খালি পেটে রসুন খেলে ডায়রিয়া হতে পারে। কারণ রসুনে আছে সালফার যা পেটে গ্যাস তৈরি করে এবং ডায়রিয়া হওয়ার পেছনে এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকে। রক্ত পরিশোধন, চর্বি ও প্রোটিন বিপাক, শরীর থেকে অ্যামোনিয়া অপসারণ ইত্যাদি হল যকৃতের অন্যতম কাজ। গবেষণা বলে, রসুনে থাকা ‘অ্যালিসিন’ উপাদান যকৃতে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে যদি মাত্রাতিরিক্ত রসুন খাওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, খালি পেটে তাজা রসুন সেবন করলে বুক জ্বালাপোড়া, বমিভাব ও পেটে ব্যাথা হতে পারে। হার্ভার্ড মেডিকাল স্কুলের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, রসুনের এমন কিছু উপাদান আছে যা জিইআরডি বা গ্যাস্ট্রোয়েসোফাজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ হওয়ার কারণ।

গর্ভবতী নারীদের রসুন খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এতে প্রসব বেদনা বেড়ে যেতে পারে। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মায়েদেরও রসুন থেকে দূরে থাকতে হবে কারণ তা দুধের স্বাদ পাল্টে দেয়। বিশেষ করে নারী যৌনাঙ্গে ইস্টজনিত প্রদাহের চিকিৎসা চলাকালে রসুন থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ রসুন নারী যৌনাঙ্গের সংবেদনশীল টিস্যুতে অস্বস্তি সৃষ্টি করে।

রসুন বেশি খাওয়ার কারণে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, ফলে দেখা দিতে পারে মাথা ঘোরানো থেকে শুরু করে নিম্ন রক্তচাপের বিভিন্ন উপসর্গ। একাধিক ক্লিনিকাল স্টাডিতে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রসুন সেবন করলে ঘাম বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত রসুন খাওয়ার কারণে ‘হাইফিমা’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ ‘আইরিস’ ও ‘কর্নিয়া’র মাঝে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। ফলাফল হারাতে পারে দৃষ্টিশক্তি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন