মিমির দুই প্রেমিককে ভাগিয়ে নিয়েছেন দুই নায়িকা

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২১ / ০২:৩৪অপরাহ্ণ
মিমির দুই প্রেমিককে ভাগিয়ে নিয়েছেন দুই নায়িকা

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। আবার তিনি যাদবপুর কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ। একটা সময় এই নায়িকার সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর মিষ্টি প্রেমের চর্চায় মুখরিত থাকতো টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল থেকে পেজ থ্রির কলাম। রাজের পরিচালনায় ২০১২ সালে ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ২০১৩ সালে ‘প্রলয়’, ২০১৪ সালে ‘যোদ্ধা: দ্য ওয়ারিয়র’ এবং ২০১৫ সালে ‘কাটমুণ্ডু’ ছবিগুলোতে অভিনয় করেন মিমি।

গুঞ্জন রয়েছে, পরপর চার বছরে চারটি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সূত্রেই একে-অন্যের কাছাকাছি হয়েছিলেন রাজ-মিমি। ২০১৫ সালের দিকে এই জুটির প্রেমের গল্প চায়ের কাপে ঝড় তুলতো। কিন্তু ২০১৬ সালে ব্রেকআপ হয়ে যায় তাদের। কেন ভেঙে গেল রাজ-মিমির সম্পর্ক? সে সময় এমন প্রশ্নই উঠতে লাগলো সর্বত্র। উত্তরও মিলল খুব শিগগির।

ঘটনা হলো, ২০১৬ সালে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় প্রথম কাজ করেছিলেন ইন্ডাস্ট্রির আরেক সুন্দরী নায়িকা শুভশ্রী গাঙ্গুলী। ছবির নাম ‘অভিমান’। শুভশ্রী সেখানে জুটি বাঁধেন সুপারস্টার নায়ক জিতের সঙ্গে। শোনা যায়, এই ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে শুভশ্রীর প্রেমে পড়েন নির্মাতা রাজ। নতুন প্রেমের গন্ধে তিনি দূরে ঠেলে দেন পুরোনো প্রেমকে। সেটি বুঝতে পেরে নীরবে সরে পড়েন মিমি।

সে সময় প্রেমিক হারানোর ব্যথা কাউকে বুঝতে না দিলেও ভেতরে ভেতরে মুষড়ে পড়েন ‘বোঝে না সে বোঝে না’ তারকা। যা মিমির সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক পোস্টে স্পষ্ট ধরা পড়ে। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে শুভশ্রীর সঙ্গে নব উদ্দ্যোমে প্রেম পর্ব চালিয়ে যান রাজ। ২০১৮ সাল পর্যন্ত চলে সেই প্রেমপর্ব। ওই বছরের ৭ মার্চ বিয়ে করেন রাজ-শুভশ্রী। ২০২০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর এই তারকা দম্পতির সংসারে আসে ছেলে ইউভান। তারা চুটিয়ে সংসার করছেন।

এদিকে, রাজকে হারানোর বছরে অর্থাৎ ২০১৬ সালে যশ দাশগুপ্তের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘গ্যাংস্টার’ ছবিতে অভিনয় করেন মিমি। এরপর ২০১৮ সালে ‘টোটাল দাদাগিরি’, ২০১৯ সালে ‘মন জানে না’ এবং ২০২০ সালে ‘এসওএস কলকাতা’ নামে আরও তিনটি ছবিতে তারা জুটি বাঁধেন। এভাবে তারা বাস্তব জীবনেও জুটি হয়ে যান। রাজকে হারানোর ক্ষত ভুলে নতুন করে যশের প্রেমে পড়েন মিমি। সেই প্রেমের কাহিনি ছড়িয়ে পড়ে টলিউডের বাতাসে।

মিমির এই সম্পর্কের কথা জানতেন ইন্ডাস্ট্রিতে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু সাংসদ-অভিনেত্রী নুসরাত জাহান। কিন্তু দিল্লির ব্যবসায়ী নিখিল জৈনের সংসারে থাকা অবস্থায়ই ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিমির প্রেমিক যশ দাশগুপ্তের দিকে হাত বাড়ান নুসরাত। ভাগিয়েও নিয়েছেন। টলিউডে এই মুহূর্তে গুঞ্জন, ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে লিভ ইন সম্পর্কে রয়েছেন যশ-নুসরাত। তারা নাকি গোপনে বিয়েও করেছেন। এছাড়া নুসরাত যশের সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন বলেও শোনা যাচ্ছে।

এবারও কোনো হাকডাক করেননি মিমি চক্রবর্তী। বরং যশ ও নুসরাতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে নীরবে কেটে পড়েছেন। দিন কাটাচ্ছেন নিজের মতো করে। অথচ ২০১৯ সালে কাছের বন্ধু নুসরাতের বিয়েতে উপস্থিত থাকতে সমস্ত কাজ থেকে বিরতি নিয়ে সুদূর তুরস্কে উড়ে গিয়েছিলেন মিমি। সেখানেই বসেছিল নিখিল-নুসরাতের বিয়ের আসর। সেই নুসরাতই কিনা বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও বন্ধুর প্রেমিককে তার কাছ থেকে বাগিয়ে নিলেন।

এবারের ঘটনায় প্রেমিক হারানোর চেয়ে মিমি বোধহয় বেশি কষ্ট পেয়েছেন সবচেয়ে কাছের বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতায়। তাইতো নিজেকে এতটাই আড়ালে রেখেছেন যে, নিখিলের সঙ্গে নুসরাতের সম্পর্কের টানাপোড়েন, একে অন্যের থেকে আলাদা থাকা, তাদের ডিভোর্সের গুঞ্জন, যশের সঙ্গে নুসরাতের প্রেম, বিয়ে ও মা হতে চলার গুঞ্জন- এসব কিছুতেই মুখে তালা মেরে রেখেছেন মিমি। কোনো ব্যাপারেই কোনো মন্তব্য করছেন না নায়িকা।

পর পর দুটি সম্পর্কে ব্যর্থ হওয়ার দুঃস্মৃতি বুকে নিয়ে কেমন আছেন মিমি? নায়িকার ভেতরের এই খবর পাওয়া না গেলেও নিজ কর্মে ঠিকই আগের মতো ব্যস্ত তিনি। চলতি বছরে দুটি ছবিতে অভিনয়ের কথা রয়েছে মিমির। ‘খেলা যখন’ ও ‘সিদুর খেলা’। প্রথমটিতে মিমির বিপরীতে থাকবেন অনির্বান চ্যাটার্জি, দ্বিতীয়টিতে অঙ্কুশ হাজরা। ছবি দুটি প্রযোজনা করবে শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস। তবে পরিচালকদের নাম প্রকাশ হয়নি। করোনার সংক্রমণ কমলেই ছবি দুটির কাজ শুরু হবে।

অভিনেতা পরিচয়ের পাশাপাশি মিমি চক্রবর্তী যাদবপুরের সংসদ সদস্য। তাই রাজনীতির মাঠেও তাকে দৌঁড়ে বেড়াতে হয় সমানতালে। কিছুদিন আগে শেষ হওয়া পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিজ দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের পক্ষে দিনরাত কাজ করেছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণায় ছুটে বেড়িয়েছেন এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দ্র। ফলও পেয়েছেন। সর্বোচ্চ আসনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো রাজ্য শাসনে তৃণমূল কংগ্রেস।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন