মালয়েশিয়ায় করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের অর্ধেক কর্মী

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২১ / ১১:২৮অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের অর্ধেক কর্মী

মালয়েশিয়ায় চলমান কড়া লকডাউনের দশম দিন অতিবাহিত হচ্ছে। লকডাউনের মাঝেও থেমে নেই বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা। করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই চলছে সেবা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে পাসপোর্ট শাখার ৫০ ভাগ স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতেও প্রবাসীদের প্রয়োজনীয়তার পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। তবে স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পোস্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য দূতাবাস থেকে বুধবার (৯ জুন) একটি জরুরি নোটিশ জারি করা হয়েছে।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, এই কঠোর লকডাউনের মধ্যেও প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ জন পাসপোর্ট সেবা নিচ্ছেন। এজন্য দূতাবাসে আসার আগে অন্যান্য দূতাবাসের মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে আসতে হয় না। সেবার দরজা খোলা।

জরুরি যোগাযোগের জন্য এ সময়ে পাসপোর্ট সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানার থাকলে সোমবার থেকে শুক্রবার অফিস চলাকালীন হাইকমিশনের ০১৪৯৪৪৭০৪৪, ০১০২৮৩৪০৬২, ০১৭৪০৮৬০১৪, ০১৩৯১২৩১০৬, ০১৬৩০৭২৪৩৮, ০১১২৫৭৪৭০৭৭ নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ইমিগ্রেশনের ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, কঠোর লকডাউনের মধ্যেও ১ জুন থেকে ১৪ জুন রিক্যালিব্রেশনের কাজ চলমান থাকবে। তবে প্রবাসীদের প্রত্যাশা ৩০ জুন পর্যন্ত এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে। ইতোমধ্যে বৈধকরণ কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য মালয়েশিয়া সরকারের নিকট হাইকমিশন অনুরোধ করেছে বলে হাইকমিশনের একটি সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বরে রিক্যালিব্রেশন কর্মসূচি ঘোষণার পর দুই সপ্তাহের মধ্যেই হাইকমিশনে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ১ লাখ ১০ হাজার পাসপোর্ট আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু সীমিত জনবল ও যন্ত্রপাতি দিয়ে অতি দ্রুত প্রসেস করে কুয়ালালামপুর থেকে এমআরপি সার্ভিসের মাধ্যমে অনলাইনে পাসপোর্টের তথ্যাদি ঢাকায় প্রেরণ করলেও ঢাকা থেকে সময়মতো প্রিন্ট হয়ে পাসপোর্ট মালয়েশিয়ায় না আসার কারণে প্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

রেমিটেন্স যোদ্ধারা আশায় রয়েছেন আগের মতো দ্রুত পাসপোর্ট হাতে পেয়ে বৈধতার সুযোগ নেবেন ও অন্যরা ভিসা নবায়ন করে নেবেন।

এ বিষয়ে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার পোস্ট অফিস সার্ভিস উদ্বোধনের সময় বলেছিলেন, প্রাথমিকভাবে এই সেবা মালয়েশিয়ার ছয়টি প্রদেশে চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব প্রদেশে চালু করা হবে। পাসপোর্ট প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা হবে।
দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার কাউন্সেলর মো. মশিউর রহমান তালুকদার জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের শুরু থেকেই এ প্রক্রিয়া ও অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদনের তথ্যাদি জানার উন্মুক্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে কেউ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘরে বসেই জেনে নিতে পারছেন আবেদনের কী অবস্থা, ডাকযোগে পাসপোর্ট পাওয়ার পদ্ধতি।

চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডাকযোগে পাসপোর্ট পেতে হলে রাজধানীর কুয়ালালামপুর জিপিও-৫০৬৭০, কেপংয়ের জিনজাং-৫২০০০, সুঙ্গাই ওয়াং-৫০২৫০, শাহ আলম জিপিও-৪০৬৭০, বান্দার বারু বাঙ্গি-৪৩৬৫০, রাওয়াং-৪৮০০০, কাজাং-৪৩০০০, ক্লাং-৪১৬৭০,

মেলাক্কা জিপিও-৭৫৬৭০, জহুরের তাংকাক-৮৪৯০০ ও সেরেম্বান জিপিও-৭০০০০ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাসপোর্ট সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে এই পোস্ট অফিসগুলো থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ডাকযোগে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে https://appointment.bdhckl.gov.bd/poslaju এই ঠিকানায় প্রবেশ করে তথ্য পূরণ করে আবেদন করতে হবে। আবেদনের ২ কর্মদিবস পর লিংকে পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লিপ নম্বর বসিয়ে সার্চ অপশনে ক্লিক করলে স্বয়ংক্রিয় একটি ট্র্যাকিং নম্বর/বারকোড প্রদর্শন হবে। আর ওই ট্র্যাকিং নম্বর/বারকোড দিয়ে https://www.pos.com.my লিংকে Track and Trace অপশনে সার্চ করলে উক্ত পাসপোর্টের হালনাগাদ সম্পর্কে জানা যাবে।

এদিকে পাসপোর্ট প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা হবে অথবা করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদ্যমান পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত দুই বছর বৃদ্ধি করে ভিসা প্রাপ্তির পথ সুগম করবে সরকার এবং দেশে থাকা প্রবাসীদের পরিবারের দুশ্চিন্তাও মুক্ত করবে বলে প্রবাসীরা আশা করেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন