আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামত রয়েছে পানিতে

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২১ / ০৮:০৬অপরাহ্ণ
আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামত রয়েছে পানিতে

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পানি।পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে পানির অস্তিত্ব বিদ্যমান। পানি ছাড়া পৃথিবীতে কোনো প্রাণীসত্তা টিকে থাকা অসম্ভব।

ভূপৃষ্ঠের শতকরা ৭১ ভাগই পানি; বাকি ২৯ ভাগ হলো স্থলভাগ। মানবদেহের শতকরা ৭৫ ভাগই পানি দ্বারা গঠিত।

ভূপৃষ্ঠের মতো করে মানবদেহেও পানি বিচরণ করে। এতে করে দেহের পুষ্টিগুণাগুণ আরও পরিপুষ্ট হয়; জৈব পদার্থগুলো উত্তমরূপে দ্রবীভূত হয়। আর দেহের বর্জ্রসমূহ পরিপাক হয়।

পানি দেহের তরল অংশ, টিস্যু, কোষ, চর্মসার, রক্ত ও গ্রন্থিক্ষরণকে সুচারুরূপে পরিচালিত করে।

একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে গড়ে ৪২ লিটার পানি থাকে। এখান থেকে মাত্র ২.৭ লিটার পানিরও যদি ঘাটতি হয়, তাহলে সে ব্যক্তি পানিশূন্যতা, ঝিমুনি, দুর্বলতা ও মাথাব্যথায় ভোগে।
সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ও দেহের কোষীয় ক্রিয়াসমূহ চালু রাখতে পানির ভূমিকা অপরিসীম।

আমাদের শরীরের শতকরা ৭৫ ভাগ পানি আমাদেরকে খাবার গলধ:করণ করতে ও হজম করতে সাহায্য করে। পানি ছাড়া দেহের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটতো না; ফলে দেহের অপ্রয়োজনীয় পদার্থগুলো যথাযথভাবে নিঃসারিত হতো না।

পানি আমাদের দেহের তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে; তাছাড়া পানি ব্যতীত অল্প কয়েকদিনও বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।

দৈনন্দিন জীবনে পানির বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। আমরা বাসাবাড়িতে পানি ব্যবহার করি, ফসল উৎপাদনে পানি ব্যবহার করি। কলকারখানা, ব্যবসাবাণিজ্য, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও এমনকি যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রেও পানির ব্যবহার হয়ে থাকে।

এক কথায়, যেখানেই জীবনের অস্তিত্ব, সেখানেই পানির প্রয়োজনীয়তা।

মানবসভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যুগে যুগে সকল সভ্যতার মূলে রয়েছে পানি। যেখানে সুপেয় পানির দেখা মিলেছে, সেই স্থানকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও পানির ব্যবহার অপরিহার্য। পানি ছাড়া মানুষের জীবন রক্ষাকারী বিচিত্র সব ঔষধ বানানো অকল্পনীয় ছিলো। মানবদেহের এমন কিছু রোগ রয়েছে, যার নিরাময় নির্ভর করে শতভাগ পানির উপর।

পবিত্র কোরআনে পানিকে সকল জীবের উৎস বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী একসঙ্গে মিলিত ছিল; অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিয়েছি এবং প্রত্যেকটি সজীব বস্তুকে পানি হতে সৃষ্টি করেছি; তবুও কি তারা বিশ্বাস করবে না? (সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৩০)

আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বেই কোরআন বলে দিয়েছে যে, প্রতিটি প্রাণীর মূলেই রয়েছে পানি। এরও কয়েকশ বছর পর যখন অনুবীক্ষণযন্ত্র উদ্ভাবিত হলো, তখন বিজ্ঞানীরা এই যন্ত্র ব্যবহার করে সাইটোপ্লাজম আবিষ্কার করে; এবং দেখতে পায় যে, এর শতকরা ৮০ ভাগই পানি দ্বারা গঠিত।
পানি সম্পর্কিত এরকম আরও অনেক তথ্য দ্বাদশ শতাব্দীর আগে মানবজাতির কাছে অজানা ছিলো যার বর্ণনা কোরআন বহু আগেই দিয়েছে।

সাগর-মহাসাগরের পানি পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং সামুদ্রিক জীবসমূহকে টিকিয়ে রাখে। সমুদ্রের ঠাণ্ডা ও গরম স্রোতের সমন্বয় ও সূর্য থেকে আলো ও শক্তি শুষে নিয়ে সামুদ্রিক প্রাণীকুলকে বাঁচিয়ে রাখা – এসবই পানি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

যখন আমরা পানি নিয়ে গবেষণা করি, তখন আমরা দেখতে পাই, পানিকে এমন কিছু গঠনগত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে যা অন্য কোনো তরল-অতরল পদার্থকে দেওয়া হয়নি। এতে করে পানির মধ্যে সঞ্চার হয়েছে জীবনীশক্তি।

পানি আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে এক বিশেষ নেয়ামত। পৃথিবীতে বিচরণশীল ও স্থিতিশীল সকল প্রাণের অস্তিত্বের জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

সুতরাং পানিকে আমাদের জন্য ও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষণ করা অতীব জরুরি।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক সত্য এই যে, মানুষ দূষণ ও সংক্রমণের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির উৎসমূহকে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজী (সা.) একবার সাদ (রা.) এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন।

তিনি সাদকে (রা.) অজুতে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করতে দেখে বললেন, অজুতে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করছো কেনো? উত্তরে সাদ (রা.) বললেন, অজুতেও পানির অপচয় হতে পারে? নবীজী (সা.) বললেন, হ্যাঁ, এমনকি যদিও তুমি প্রবহমান নদীর তীরে থাকো। (সুনান ইবনে মাজাহ: ৪২৫)

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন