গ্রামীণফোন ও রবির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে বিটিআরসি

মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নানাভাবে উদ্যোগ নিয়েও তাদের কাছ থেকে পাওনা টাকা উদ্ধার করতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিটিআরসি। প্রথমে ব্যান্ডউইথের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরে সেটা তুলে এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এখনো সেই সিদ্ধান্ত বহাল। কিন্তু তারপরও তারা টাকা দিচ্ছে না।

এবার তাদের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ জন্য তাদের শোকজ করতে চায়। তার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। গত বুধবার মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন মিলেছে। এ সপ্তাহেই তাদের বিরুদ্ধে চিঠি যাচ্ছে।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিটিআরসি আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়ার সেটা নেবে। মন্ত্রণালয় অভিভাবক হিসেবে তাদের যে ধরনের সহযোগিতা দেওয়া দরকার আমরা সেটা দেব।’ বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুক হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা লাইসেন্স বাতিলের শোকজ করার জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেয়েছি। শিগগিরই তাদের কাছে চিঠি যাবে।’

এ সপ্তাহেই এমন চিঠি যেতে পারে কি-না? জানতে চাইলে বিটিআরসির এক জন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আমরা চিঠি দেব। সেটা এ সপ্তাহেই হতে পারে। রাষ্ট্রের টাকা উদ্ধারে সব চেষ্টাই করা হবে।’

গত ২৪ জুলাই বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে এ ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশন বৈঠকের ২৮ নম্বর সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ‘অডিটের মাধ্যমে শনাক্ত করা গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি টাকা তারা পরিশোধ না করে টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ এর লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করেছে। ফলে একই আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না—তা ৩০ দিনের মধ্যে জানানোর জন্য শোকজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।’

কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, এটা জানতে চেয়ে শীর্ষ দুই অপারেটরের কাছে চিঠি যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল তা তুলে নিয়ে অপারেটর দুটির এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) বন্ধের ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। তখন বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেছিলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে অপারেটর দুটির ব্যান্ডউইথ প্রত্যাহার হয়ে যাবে (তারা ফিরে পাবে)। তাহলে টাকা কীভাবে আদায় হবে? আমাদের আইনে যা আছে, তা আমরা প্রয়োগ করব। আমাদের আইনে যে ব্যবস্থা দেওয়া আছে, তা প্রয়োগ করে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে। এটুকু সিদ্ধান্ত হয়েছে। টাকাটা পাবলিক ডিমান্ড। রাষ্ট্রীয় টাকা। এ টাকা মাফ করার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘এ টাকা অপারেটরগুলোর না দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তেমনি বিটিআরসিও মাফ করতে পারবে না।’

বিটিআরসি চেয়ারম্যান তখন বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আইসিটি উপদেষ্টার নির্দেশে গ্রাহক ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাদের কোনো ধরনের এনওসি দেওয়া হবে না। এমনকি নতুন কোনো প্যাকেজেরও অনুমোদন দেওয়া হবে না। এরপরও যদি টাকা আদায় না হয়, তাহলে আমরা প্রশাসক নিয়োগের কথাও চিন্তা করতে পারি।’ এখন তো লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না, সেই মর্মে চিঠি যাচ্ছে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত