ছেলে ভেঙে দিল বৃদ্ধের দুই হাত

প্রকাশিত: মে ৯, ২০২১ / ১০:১৬অপরাহ্ণ
ছেলে ভেঙে দিল বৃদ্ধের দুই হাত

পটুয়াখালীর বাউফলে ছেলের কাছে ভরণপোষণ চাওয়ায় মারধরের শিকার হলেন সেকান্দার আলী (৮০) নামের এক বৃদ্ধ। ছেলে সবুজ শিকদার পিটিয়ে ওই বৃদ্ধের দুই হাত ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের ইন্দ্রকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আহত বৃদ্ধকে উদ্ধার করে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চিকিৎসক আখতারউজ্জামান বলেন, ওই বৃদ্ধের বাম হাতের মধ্য অংশ ও ডান হাতের বৃদ্ধ আঙ্গুল সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। সুস্থ হতে সময় লাগবে।

মো. সেকান্দার আলী জানান, তার চার ছেলে। বড়ছেলে সিদ্দিক সিকদার ঢাকায় থাকে। মেজো ছেলে মিজান ও সেজো ছেলে সবুজ বাড়িতে থাকে। ছোটছেলে তার শ্বশুরবাড়ির কাছে আলাদা বাড়ি করে বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকে। তিনি ও তার স্ত্রী ময়না বেগম নিজ ঘরে পরবাসী জীবনযাপন করেন।

তিনি জানান, এক সময় ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী তার মেয়ে তাজমহলের কাছে চলে যান। মাঝে-মধ্যে তার বাবার বাড়ি গিয়েও থাকেন। তিনি হাত পেতে চলেন। মাঝে মধ্যে বড় ছেলের মেয়ে মরিয়মের বাড়ি গিয়ে দুই মুঠো খান। রাতে মসজিদে কিংবা কোনো দোকান ঘরের বেঞ্চে ঘুমান।

ঘটনার দিন শনিবার দুপুরের দিকে সেকান্দার আলী সিকদারের সেজো ছেলে সবুজ বাড়িতে বাঁশ কেটে সাবাড় করছিলেন। ওই খবর পেয়ে সেকান্দার আলী সিকদার বাড়ি যান। এরপর সেজো ছেলেকে বাঁশ কাটার কারণ জানতে চান। এ সময় ছেলের সঙ্গে তার তর্ক হয়।

তিনি ছেলেকে বলেন- ‘আমার সম্পদ ভোগ করতে হলে আমাকে এবং তোমার মাকে ভরণপোষণ দিতে হবে।’ এতে সেজ ছেলে রাজি হয়নি। বরং তার হাতে থাকা দায়ের বাট দিয়ে তাকে পেটাতে থাকেন।

একপর্যায়ে তাকে পিটিয়ে বাম হাতের মধ্য অংশ ও ডান হাতের বৃদ্ধ আঙ্গুল ভেঙে দেন। ঘটনার পর সেজো ছেলে সবুজ তাকে আটকে রাখে। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসতে দেয়নি।

খবর পেয়ে তার বড়ছেলে সিদ্দিকুর রহমান সিকদারের মেয়ে (নাতনি) মরিয়ম বেগম ওই বাড়িতে গিয়ে তার দাদাকে উদ্ধার করে রোববার দুপুরে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

বৃদ্ধের নাতনি মরিয়ম বেগম বলেন, তার দুই চাচা বাড়িতে থাকেন। তার দাদার সম্পদ ভোগ করেন। অথচ তাকে ও দাদিকে ভরণপোষণ দেন না। ভরণপোষণ চাইলে মারধর করেন। এর আগেও কয়েকবার তার দাদাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

তার দাদা নিরুপায় হয়ে হাত পেতে জীবন চালান। রাতে মসজিদে কিংবা কোনো দোকান ঘরের সামনের বেঞ্চে ঘুমান। আর তার দাদি কখনো মেয়ের বাড়ি, আবার কখনো তার বাড়িতে এসে থাকেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন