প্রলোভন দেখিয়ে আড়াই কোটি টাকা নিয়ে পরিবার উধাও

প্রকাশিত: এপ্রি ৮, ২০২১ / ০৭:২৩অপরাহ্ণ
প্রলোভন দেখিয়ে আড়াই কোটি টাকা নিয়ে পরিবার উধাও

বগুড়ার শেরপুরের টাউন কলোনি এলাকায় বিভিন্নজনের কাছ থেকে অতিরিক্ত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় আড়াই কোটি হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে প্রভাবশালী এক পরিবার। এ ঘটনায় বুধবার রাতে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতা।

অভিযুক্তরা হলেন- আনছারুল হক জুয়েল (৫২), এসএম ফরিদা হক (৪২), তাহমিনা জামান হিমিকা (৪৮), ফারদিন হক ফাহিম (২৬) ও নিতু হক (২৪)।

জানা যায়, পৌর শহরের টাউন কলোনি এলাকার আনছারুল হক জুয়েলের দ্বিতীয় স্ত্রী তাহমিনা জামান হিমিকা ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন।

সেই নির্বাচনের খরচ চালাতে স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাসহ ১৫-১৬ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পরিবারের অন্য সদস্য প্রথম স্ত্রী এসএম ফরিদা হক, ছেলে ফারদিন হক ফাহিম ও ছেলে বউ নিতু হক মিলে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নেয়।

দীর্ঘদিন সেই টাকা দিতে টালবাহানা করায় এলাকায় বেশ কয়েকবার সালিশি বৈঠক হয়। বৈঠকে ১ মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের কথা বলে তারা সবাই মিলে পালিয়ে যায়। পরে জুয়েলের প্রথম স্ত্রী ফরিদা হক গত বছরের ৫ ডিসেম্বর শেরপুর পৌরসভা নির্বাচন করার জন্য শেরপুরের টাউন কলোনির বাড়িতে আসেন।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে শেরপুর শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ আহম্মেদ সুমন বাদী হয়ে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযোগকারী সুমন বলেন, আনছারুল হক জুয়েলের প্রথম স্ত্রী এসএম ফরিদা হক বাড়িতে আসলে আমরা তার কাছে টাকা চাইতে যাই। কিন্তু তিনি আমাদের টাকা না দিয়ে বলেন যে, জুয়েলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়েছে। তোমরা জুয়েলের কাছে যাও। অথচ আমাদের টাকা নিয়ে তিনি টাউন কলোনি এলাকায় ৫ তলা ভিত দিয়ে বাড়ি করছেন।

এ ব্যাপারে আনছারুল হক জুয়েলের প্রথম স্ত্রী এসএম ফরিদা হকের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের টাকা লেনদেনের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। অহেতুক আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শেরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন