ইকোপার্কে দলবেঁ’ধে ধ’র্ষ’ণ: তিন দিনেও আ’সা’মি শ’নাক্ত করতে পারেনি পুলিশ

প্রকাশিত: এপ্রি ৩, ২০২১ / ১১:৩২অপরাহ্ণ
ইকোপার্কে দলবেঁ’ধে ধ’র্ষ’ণ: তিন দিনেও আ’সা’মি শ’নাক্ত করতে পারেনি পুলিশ

বরগুনার তালতলীর টেংরাগিরি ইকোপার্কে এক পর্যটককে দলবেঁ’ধে ধ’র্ষ’ণের ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের শ’না’ক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষু’ব্ধ জেলার সচেতন মহল।

তবে পুলিশ বলছে অ’ভি’যু’ক্ত’দের গ্রে’প্তা’রে চে’ষ্টা চা’লিয়ে যাচ্ছেন তারা। এদিকে গত বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) ভু’ক্তভোগী ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে।

এর আগে বুধবার (৩১ মার্চ) বিকেলে ভগ্নিপতির সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তালতলীর টেংরাগিরি ইকোপার্কের বনে দলব’দ্ধ ধ’র্ষ’ণের শি’কা’র হন ভুক্তভো’গী ওই নারী। এ ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে চার জনের নাম উল্লেখ করে তালতলী থানায় একটি ধ’র্ষ’ণ মা’ম’লা দায়ের করেছেন পা’শবিক নি’র্যা’ত’নের শি’কা’র ওই নারী পর্যটক।

মা’ম’লা’য় সোহাগ (২৫), রুবেল (২৮), মিজানুর (২৪) ও জাহিদুল (২৭) নামের চার যুবককে অ’ভি’যু’ক্ত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অভি’যুক্তদের পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) এবং ওই হাসপাতালের ভিকটিম এক্সামিনেশন বোর্ডের সদস্য ডা. তাসকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, বৃহস্পতিবার ভু’ক্ত’ভো’গী ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে হাসপাতালের ভিকটিম এক্সামিনেশন বোর্ডে সদস্যরা।
পাশাপাশি নি’র্যা’ত’নের শি’কা’র ওই নারী বিবাহিত এবং তার একটি সন্তানও আছে। অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে ধ’র্ষ’ণের আলা’মত সংগ্রহ করা যতটা সহজ, বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে ততটা নয়। তাই আমরা আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলার নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, বরগুনার পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করার জন্য আ’সা’মি’দের দ্রুত গ্রে’প্তা’র করা দরকার। তা না হলে এ জেলার পর্যটন স্পটগুলো থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা মুখ ফিরিয়ে নেবে। মুখ থু’ব’ড়ে পড়বে জেলার সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত।

তিনি আরো বলেন, স্পটগুলোতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখোরিত রাখতে হলে অভি’যু’ক্ত’দের দ্রুত গ্রে’প্তা’র করে দৃ’ষ্টা’ন্ত’মূ’লক শা’স্তি দেওয়া খুবই প্রয়োজন।

বরগুনা জেলা পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সোহেল হাফিজ বলেন, পর্যটন কেন্দ্রে একজন পর্যটককে দ’ল’বেঁ’ধে ধ’র্ষ’ণের ঘটনা বরগুনা জেলার পর্যটন খাতকে ধ্বং’সের মুখে ঠেলে দেবে। তাই টেংরাগিরি ইকোপার্কের ন্যা’ক্কা’র’জনক ওই ঘটনায় অ’ভি’যু’ক্ত’দের দ্রুত গ্রে’প্তা’রের দা’বি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা অবিরত জেলার পর্যটন খাতের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেখানে পর্যটন কেন্দ্রে এরকম একটি ন্যা’ক্কা’র’জনক ঘটনা আমাদের সকল প্রচেষ্টার মুখে চু’ন’কা’লি মেখে দিয়েছে। তাই আ’সা’মি’দে’র দ্রু’ত গ্রে’প্তা’রের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি জানান।

জেলা পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ রহমান বলেন, আমরা জেলার পর্যটন খাতকে শিল্পে রূপান্তরিত করার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু বরগুনার প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রেই উচ্ছৃঙ্খলদের উৎপাত রয়েছে। এর ফলে জেলার পর্যটন খাত বাধা’গ্র’স্ত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদের কারণে জেলার প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রেই পর্যটকদের হয়’রা’নির শি’কা’র হতে হয়। তাই আমরা কাঙ্খিত সফলতা পাচ্ছি না। তিনি জেলার প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

এ মা’ম’লা’র তদন্তকারী কর্মকর্তা তালতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত শুধু আ’সা’মি’দের নাম জানতে পেরেছি। তবে তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। এখন পর্যন্ত আ’সা’মি’দের শ’না’ক্ত করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা আ’সা’মি’দের গ্রে’প্তা’রে’র চে’ষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, আ’সা’মি’দের গ্রে’প্তা’রে’র জন্য বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভি’যান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের সোর্সদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আমি আশাবাদী খুব দ্রুত আসা’মি’দে’র গ্রে’প্তা’র করা সম্ভব হবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন