শাশুড়ি খু’নে ঘা’তক পুত্রবধূর স্বীকারোক্তি

প্রকাশিত: এপ্রি ২, ২০২১ / ১১:৫৫অপরাহ্ণ
শাশুড়ি খু’নে ঘা’তক পুত্রবধূর স্বীকারোক্তি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের সূত্রধর বাড়িতে বি’ধবা মনোরমা সূত্রধর (৬০) হ’ত্যা’র ঘটনায় একমাত্র ছেলের স্ত্রী শিবানী সূত্রধর (৩০) শাশুড়ি খুনের কথা স্বীকার করেছে। থানা পুলিশের ব্যাপক জেরার মুখে হ’ত্যা’কা’ণ্ডের মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে সে মুখ খুলতে বা’ধ্য হয়।

এ ঘটনায় হ’ত্যা’কা’ণ্ডে’র শি’কার মনোরমা সূত্রধরের বড় মেয়ে পুতুল রানী সূত্রধর বাদী হয়ে ভাইয়ের স্ত্রীকে আ’সা’মি করে শুক্রবার হ’ত্যা মা’ম’লা দায়ের করেন। এদিকে মনোরমা সূত্রধরের লা’শ ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে পারিবারিক শ্ম’শা’নে দা’হ করা হয়েছে। মনোরমা সূত্রধর ওই বাড়ির মৃত হরেন্দ্র সূত্রধরের স্ত্রী। শাশুড়ি হ’ত্যা’কারী শিবানী রানী সূত্রধর উক্ত দম্পতির ছেলে গৌরাঙ্গ সূত্রধরের স্ত্রী। গৌরাঙ্গ-শিবানী দম্পত্তির নাবালক দুটি ছেলে রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনোরমা সূত্রধর মারা যাওয়ার পর থেকে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র বলতে শুরু করে এ নারীকে হ’ত্যা করা হয়েছে। তাদের পরিবারে বউ-শাশুড়ির মধ্যে প্রায় দিনই ক’ল’হ লেগেই থাকত। এসব বিষয় নিয়ে এই পত্রবধূ এর আগে এক সময় শাশুড়িকে মে’রে ফেলার চে’ষ্টা করেছিল। সে ঘটনায় নি’হ’তের বড় মেয়ে সে সময় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিল।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে শাশুড়ির লা’শ উ’দ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার সময় নি’হ’তের একমাত্র ছেলে গৌরাঙ্গ ও ছেলের স্ত্রী শিবানীকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে শিবানী জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সে একাই প্রথম শাশুড়িকে মাটিতে ধা’ক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এর পরে শ্বা’স’রো’ধ করে হ’ত্যা করে। শাশুড়িকে হ’ত্যা’র অনেক পরে তার স্বামী গৌরাঙ্গ কাজ থেকে বাড়িতে আসে। এমন বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়ে গৌরাঙ্গকে পুলিশ ছেড়ে দেয়।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বউ-শাশুড়ির বনিবনা ছিল না বহুদিন ধরে। এই দুই নারীর পারিবারিক ক’ল’হ প্রায় দিন হতো। এতে করে উভয়ে উভয়ের ওপর ক্ষু’ব্ধ ছিল। কিন্তু পুত্রবধূ হয়ে শাশুড়ি একেবারে মে’রে’ই ফেলবে এটা কেউ কখনো ভাব’তেই পা’রেনি।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হারুনুর রশিদ জানান, শ্বাশুড়িকে ধা’ক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে শ্বা’স’রো’ধ করে হ’ত্যা’র কথা আমাদের কাছে স্বীকার করেছে এই নারী। অপর এক প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় নি’হ’তের বড় মেয়ে পুতুল রানী সূত্রধর তার ভাইয়ের স্ত্রী শিবানী রানী সূত্রধরকে একমাত্র আ’সা’মি করে মা’ম’লা দায়ের করেছে।

উল্লেখ্য, তিন সন্তারের জননী বিধবা মনোরমা সূত্রধর ২ মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ছেলে ও ছেলের বউসহ থাকতেন স্বামীর ভিটায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বাড়ির ও স্থানীয়রা এই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে র’ক্তে’র দাগসহ মৃত অবস্থায় বাড়ির পাশে আবিষ্কার করেন।

খরব পেয়ে রাতেই হাজীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হারুনুর রশিদ এ বাড়িতে আসে। রাতে লা’শ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন