বন্ধ ঘোষণা করা হলো ‘কক্সবাজারসহ ১১ জেলার পর্যটন কেন্দ্র’

প্রকাশিত: এপ্রি ১, ২০২১ / ১১:১৭অপরাহ্ণ
বন্ধ ঘোষণা করা হলো ‘কক্সবাজারসহ ১১ জেলার পর্যটন কেন্দ্র’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জসহ দেশের ১১ জেলার পর্যটনকেন্দ্র আগামী দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। এজন্য গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বিভিন্ন স্থানে মাইকিংও করা হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :

ইকরাম চৌধুরী টিপু, কক্সবাজার : করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের সব পর্যটন কেন্দ্র আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ।

মামুনর রশিদ বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে একটি নির্দেশনা পৌঁছায়।

এতে হোটেল-মোটেলসহ কক্সবাজারের সব পর্যটন কেন্দ্রগুলো আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা মতো ব্যবস্থা নিতে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যে বা যারা নির্দেশনা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।’

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম : করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে দেশের বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মমিনুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পর্যটন, বিনোদন কেন্দ্র, সিনেমা হল, থিয়েটার হল, মেলা আয়োজন আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ ছাড়াও চট্টগ্রামে সব হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগের বেশি জনসাধারণ প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে।

দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, সুনামগঞ্জ : করোনা সংক্রমণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৮ নির্দেশনার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে আরও ১১টি নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসন।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জেলার টাঙ্গুয়ার হাওর, শিমুল বাগান, বারিক টিলা, টেকেরহাটসহ সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করার কথা জানানো হয়েছে। আজ বিকেলে জারিকৃত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সুনামগঞ্জের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ : করোনার সংক্রমণ রোধে এবং জনসমাগম ঠেকাতে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্ক ও বিপিন পার্কসহ সব দর্শনীয় স্থান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ থেকে এসব বন্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিটি উপজেলায় মাঠে থাকবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া জেলার সব কমিউনিটি সেন্টারও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলার সব কোচিং সেন্টার, বিয়ের অনুষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশ বন্ধ থাকবে। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক বলেন, প্রতি উপজেলায় একটি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। নতুন করে যাদের করোনা শনাক্ত হচ্ছে, তাদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতসহ জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার কুয়াকাটা সৈকতে মাইকিং করা হয়। ছবি : ফোকাস বাংলা

কাজল বরণ দাস, পটুয়াখালী : করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র আজ থেকে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কাকন রেজা, শেরপুর : করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শেরপুরের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। আজ থেকে বন্ধের আদেশ জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

এই আদেশের ফলে শেরপুরের পর্যটন কেন্দ্র গজনী অবকাশ, মধুটিলা ইকোপার্ক বন্ধ হয়েছে আজ সকাল থেকে। এসব কেন্দ্রে মাইকিং করে পর্যটকদের ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়াও ডিসি উদ্যানসহ শেরপুরের যত বিনোদন কেন্দ্র আছে সবগুলোতেই মানুষের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে গড়ে ওঠা দোকানপাট বন্ধ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের চারটি পর্যটন কেন্দ্র ও পার্ক আজ দুপুর ১টার দিকে বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রসাশন। এগুলো হলো জোহান ড্রিম ভেলি পার্ক, তামান্না পার্ক, কালীগঞ্জ উপজেলার নলডাঙ্গা রিসোর্ট, কোটচাঁদপুর উপজেলার বকুল পার্কসহ সবগুলো কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ফজলে এলাহী, রাঙামাটি : করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আজ থেকে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সব পর্যটন কেন্দ্র ১৪ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া করোনা সংক্রমণ রোধে বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

গতকাল বুধবার বিকেলে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় দুই সপ্তাহের জন্য অন্তর্বতীকালীন এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়তে পারে বলেও আভাস দেওয়া হয়।

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান : করোনা সংক্রমণ রোধে বান্দরবানে সব ধরনের পর্যটন কেন্দ্রগুলো দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজির সভাপতিত্বে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় স্বাস্থ্য বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

১ এপ্রিল থেকে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য বান্দরবান জেলার সবগুলো পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা ও আবাসিক হোটেলগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দুই সপ্তাহের পর পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

আবু তাহের মুহাম্মদ, খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আজ থেকে খাগড়াছড়ি জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র পরবর্তী ১৪ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এস এম উমেদ আলী, মৌলভীবাজার : করোনা সংক্রমণ রোধে আজ থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার পর জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র ও দোকানপাট বন্ধ করতে প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘জেলাব্যাপী সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিয়ে, ওয়াজ, কীর্তন কিছুই করা যাবে না। এত দিন আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে প্রচার চালিয়ে আসছিলাম। এর গতি আরও বৃদ্ধি করা হবে। সেই সঙ্গে বন্ধ থাকবে সব পর্যটন স্পট।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন