‘ভোট আইলে প্রার্থীরা রাস্তা কইরা দিবার চায়, পরে মনে থাহে না’

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২১ / ০৯:১৬অপরাহ্ণ
‘ভোট আইলে প্রার্থীরা রাস্তা কইরা দিবার চায়, পরে মনে থাহে না’

‘আমরা মেলা ক’ষ্টে আছি। নির্বাচন এলে মেম্বার চেয়ারম্যানরা কয় রাস্তাডা পাকা কইরা দিমু। পরে আর দেয় না। বর্ষা আইলে পোলাপান স্কুলে যাইতে পারে না। আমরা চলাচল করতে পারি না।’

কথাগুলো বলছেন রানীশিমুল গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল্লাহ মিয়া। তার মতো স্থানীয় বাসিন্দা গ্রাম্য পুলিশ রাম প্রসাদ, আকরাম হোসেন, মমিনুল হক, প্রমেলা রবিদাস, সাবিনাসহ রানীশিমুল ও বিলাসপুর গ্রামবাসীদের দাবি, আমরা সাহায্য চাই না, পাকা রাস্তা চাই।

এটি দুই উপজেলার সংযোগ সড়ক। সড়কটির কিছু অংশ ধসে গেছে। গত বছরের পাহাড়ি ঢলে গর্তে আজো মাটি ভরাট হয়নি। ফলে সেই থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ। যাতায়াতে চ’রম দুর্ভো’গের শি’কার হচ্ছেন শেরপুরের শ্রীবরদীর রানীশিমুল ও ঝিনাইগাতীর বিলাসপুর গ্রামবাসীরা। সড়কটি পাকা করণসহ ব্রিজ নির্মাণের দাবি তুলে আসছেন আগে থেকেই। আজও তা রয়েছে উপেক্ষিত।

সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণের দাবি আরো জোরালো হচ্ছে। রবিবার সরেজমিন গেলে স্থানীয় লোকজন, চলাচলকারী ও জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ওঠে আসে এমন তথ্য।

রানীশিমুল ও বিলাসপুর গ্রামবাসীরা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি নির্মিত হয়। কাঁচা সড়ক হওয়ায় প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়। এসব গর্ত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও লোকজন মাটি ভরাট করে চলাচল করেন। গত বছর পাহাড়ি ঢলে রানীশিমুল গ্রামের সড়কে গ্রাম্য পুলিশ রাম প্রসাদের বাড়ির পাশে ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়। এর পর থেকেই বন্ধ হয় ছোট যানবাহন চলাচল। পায়ে হেটেও চলাও অনেকটাই কষ্টকর। দুই গ্রামবাসীসহ প্রতিদিন শতশত লোক চলাচল করেন প্রায় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে। শুকনা মৌসুমে কোনো মতে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করা যায়। তবে বর্ষা এলে এই সড়কে কেউ চলাচল করতে পারে না। প্রায় সবটুকু সড়কেই থাকে হাঁটু পানি আর কাদা। শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। ধান, চাল ও সবজি পরিবহনে পড়েন চরম বিপাকে। এসব বিক্রি করতে হয় অর্ধেক দামে।

গ্রাম্য মাতাব্বর মিস্টার মিয়া বলেন, নির্বাচন এলে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা রাস্তা কইরা দিবার চায়। পরে আর মনে থাহে না। গ্রামবাসীদের দাবি, এবার সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণের। তাদের মতে, মাত্র আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হলে যোগ হবে ৪টি গ্রামবাসীর চলাচলে নতুন মাত্রা। বদলে যাবে গ্রামের চিত্র।

রানীশিমুল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, সড়কটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ। বরাদ্দের অভাবে নির্মাণ করতে পারিনি। তবে চাহিদা দেওয়া আছে। বরাদ্দ হলেই পাকা করণ হবে সড়কটি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন