মাহফিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনায় জড়াল দুই গ্রুপ

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২১ / ০৬:৩৮অপরাহ্ণ
মাহফিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনায় জড়াল দুই গ্রুপ

নেত্রকোনার পূর্বধলায় একটি মাদ্রাসার কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় মাহফিলকে সামনে রেখে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘ’র্ষের আশংকায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘ’র্ষ এড়াতে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে ধর্মীয় মাহফিল স্থগিতের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা সদরের হিড়িভিটা গ্রামে হিড়িভিটা মফিজিয়া তালিমূল কুরআন নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ধর্মীয় মাহফিলকে সামনে রেখে এ উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ওই সং’ঘর্ষ এড়াতে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে ধর্মীয় মাহফিল স্থগিতের দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পূর্বধলা থানার ওসি বরাবরে অনুলিপি দিয়েছেন হিড়িভিটা গ্রামের জনৈক দুলাল তালুকদার।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক উপজেলা সদরের হিরিভিটা গ্রামের আব্দুল মালেক তালুকদার বলেন, দুই মাস আগে মাদ্রাসা কমিটির এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে ওই মাদ্রাসার সভাপতি করা হয়। এখন কি কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বিষয়টি তার জানা নেই। এতে তার সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি উপজেলা সদরের হিরিভিটা গ্রামের ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার আজাদ বলেন, এর আগেও কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি আইন শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছিল। যার কারণে ওই মাদ্রাসার ধর্মীয় মাহফিল পণ্ড হয়ে ছিল।

মাদ্রাসার মোহতামিম ও পরিচালক হাফেজ উমর ফারুক বলেন, দুইমাস আগে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত হলেও ওই দিন কমিটি গঠন করা হয়নি। দেড়মাস আগে সর্বসম্মতিক্রমে যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে তাতে আব্দুল মালেক তালুকদারকে সভাপতি করা হয়নি।

মাদ্রাসার জমিদাতা হিরিভিটা গ্রামের নূরুল ইসলাম জানান, প্রায় ১ যুগ আগে এলাকায় ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে তার বাবা মৃত আমির উদ্দিন ও চাচা মৃ’ত মফিজ উদ্দিন তাদের নিজ জমিতে ওই মাদ্রাসাটি স্থাপন করেন।

এর পর মাদ্রাসাটি পুনঃনির্মাণ করে ২০১৮ সাল থেকে তার ভাগ্নে উপজেলার বাড়হা গ্রামের হাফেজ উমর ফারুক মাদ্রাসার মোহতামিম ও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। মোহতামিম এককভাবে এ কমিটি গঠন করেননি।

মাদ্রাসার বৃহৎ স্বার্থে সর্বসম্মতিক্রমে পার্শ্ববর্তী বারধার গ্রামের জনৈক মাজাহারুল ইসলাম সোহেল ওরফে শিল্পপতি সোহেলকে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি করায় এলাকায় একটি গ্রুপ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

মাদ্রাসা কমিটির সাবেক সভাপতি স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন, গত বছর তিনি ওই মাদ্রাসার সভাপতি ছিলেন, কোন্দলের কারণে এক বছর যেতে না যেতেই তিনি তার পদ থেকে সরে এসেছেন। এর আগে ২০১৯ সালে যিনি সভাপতি ছিলেন তিনিও তার মেয়াদ
শেষ করতে পারেননি।

পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে কুলসুম জানান, ধর্মীয় মাহফিল স্থগিতের দাবিতে একটি লিখিত আবেদন তিনি পেয়েছেন। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন