বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ২৪ ঘণ্টাই বাজে

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২১ / ০৯:৩১অপরাহ্ণ
বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ২৪ ঘণ্টাই বাজে

উপজেলা প্রসাশন ভবনের সিঁড়ির পাশে দেয়াল জুড়ে তৈরি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিস্ময়কর স্মৃতি কথামালার বঙ্গুবন্ধু গ্যালারি। শৈশব কৈশর এমনকি জীবনের শেষ দিনের স্মৃতিগুলো থরে থরে সাজানো হয়েছে সাদা কাচের ভেতর।

স্মৃতিগুলো যেন মিটমিট বিদ্যুতের আলোয় আজও জ্বলছে। পাশেই ছোট একটি বক্সে দিন-রাত সমান তালে বেজেই চলছে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

বলছি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্রসাশন ভবনের সিঁড়ির সঙে লাগানো দেয়ালের কথা। দোতালা এই প্রসাশন ভবনের উঠতেই যে সিঁড়িটি ব্যবহার করা হয়েছে সেই সিঁড়ির দু-পাশের দেয়ালে তৈরি করা হয়েছে এমন বিরল দৃশ্য। স্থানীয় প্রসাশনের দাবি, নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম জাগানোর জন্যই এমন আয়োজন করা হয়েছে।

স্থানীয় সাংসদ এমপি শিবলী সাদিকের সহযোগিতায়, উপজেলা প্রসাশন ও উপজেলা পষিদের উদ্যোগের দেয়ালটিতে এমন ব্যতিক্রম আয়োজন করা হয়েছে। শুধু সিঁড়ির দেয়াল নয় পুরো উপজেলা পরিষদটি পরিপাটি ভাবে সাজানো।

সরেজমিনে উপজেলা পরিষদের বিস্ময় গ্যালারিতে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের প্রশাসন ভবনের ভেতর ঢুকতে ভেসে আসছে সেই সংগ্রামী কণ্ঠ, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

সিঁড়িটির দুপাশের দেয়ালে সাদা কাঁচের ভেতর সাজানো হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবনের স্মৃতিময় কিছু কথা। সেখানে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকল সদস্যদের ছবি। ১৯২০ সাল থেকে শুরু করে বায়ান্নর ভাষা আন্দলোন, সবকিছুই সেখানে সাজানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের প্রতিটি চিত্র সেখানে নিখুঁদভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। সিঁড়িতে প্রবেশ করলে শরীরে এক অন্যরকম অনুভূতি অনুভব হবে। বলতে গেলে বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেমের জলন্ত উদাহরণ।

জানতে চাইলে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, জাতীর পিতার জন্ম শত বার্ষিকীতে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি এবং যে নীতিমালা বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি এবং তার ভাবগাম্বিজ পূর্ণ স্মৃতিগুলোকে সাজানোর চেষ্ঠা করেছি।

স্মৃতিগুলোর সঙে যুক্ত করা হয়েছে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধুর ভাষণ। যে ভাষণ ২৪ ঘণ্টায় বাজানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিঁডি বেয়ে কেউ উপরে উঠলেই শুনতে পাবেন সেই ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিগুলোকে দেখা এবং শোনা দুটো ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তার দেশ ও জাতীর জন্য যে ভালোবাসা এবং অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন সেই স্মৃতিটিকে ধরে রাখার জন্য তার জন্ম থেকে শুরু করে জাতিসংঘে তার ভাষণ পর্যন্ত তার জীবনের যে স্বর্ণময় অধ্যায়গুলেকে আমাদের উপজেলা পরিষদ চত্বরের অফিস সমুহের প্রবেশ মুখে যে সিঁডির পাশে দেয়ালে সুন্দর ভাবে গ্যালারি আকারে তুলে ধরেছি।

তিনি বলেন, আমাদের দিনাজপুর-৬ আসনের সাংসদ এমপি শিবলী স্যারের সহযোগিতায় এবং জেলা প্রসাশক মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন এটি বাস্তবায়ন করেন।

জানতে চাইলে নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, যেহেতু আপনারা জানেন উপজেলা পরিষদ একটি সাধারণ মানুষের একটি বৃহৎ অঙ্গন। এখানে নানা শ্রেণির মানুষের অনাগোনা হয়।

দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এটা জানানোর জন্য যে আমাদের জাতীর পিতা মানুষের জন্যই ত্যাগ স্বীকার করেছেন সেটি সকল জনগণ এবং আমাদের ভবিষৎ প্রজন্ম যাতে জাতীর পিতার বিষয়ে জানতে পারে এবং অন্তরে ধারণ এবং নিজেদের মধ্যে লালন করে জাতীর পিতার সোনার বাংলাগড়ার যে লক্ষ ছিল তারই এটি ক্ষুদ্র প্রায়াস।

জানতে চাইলে দিনাজপুর-৬ আসনের সাংসদ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য এমপি শিবলী সাদিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ আমাদের জীবনের একটি চরম শিক্ষা। একটি ভাষণের মাধ্যমে দেশ, জাতি এবং সমাজ পরিবর্তন আনতে পারে।

তিনি বলেন, সবসময় আমরা একটি বিষয় নিয়ে আমরা বির্তকে জড়িয়ে পড়ি স্বাধীনতার ঘোষক এবং স্বাধীনতার স্থাপতি নিয়ে। আমরা এটাই জনগণকে এবং ভবিষৎ প্রজন্মকে বলতে চাই যে বাংলাদেশের জনক এবং স্বাধীনতার ঘোষক একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এটি নিয়ে দ্বিতীয় কোনো অপশন নেই বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার এক মাত্র ঘোষক। আমরা আমাদের বঙ্গবন্ধুর গ্যালারিতে ৭ই মার্চের ভাষণ যুক্ত করেছি যাতে আমাদের ভবিষৎ প্রজন্ম বর্তমানে যারা আছেন তারা যেন সেই কথাগুলোকে নিজের অন্তরে ধারণ করে তাদের জীবন গড়তে পারেন। যে ভাষণ দিন রাত ২৪ ঘণ্টাই বাজে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে এখন ডিজিটাল হয়েগেছে আগামী প্রজন্ম যেন এই বঙ্গবন্ধুর গ্যালারি দৃশ্য দেখে তাদের জীবনের পরিবর্তন আনতে পারে। সেই ধারণা থেকেই এমন আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতে এই আসনের চারটি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন