নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী, যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২১ / ১১:৩৪পূর্বাহ্ণ
নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী, যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শুক্রবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বিদেশি ভিভিআইপিদের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুযায়ী ইতোমধ্যে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তবে মোদির আগমনের আগের দিন বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভের বিষয়টি মাথায় রেখে আগামী দু’দিন ব্যাপক নিরাপত্তার প্রস্তুতি নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরো রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ছাড়াও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বিশেষ শাখা (এসবি) ও অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে তৎপর রয়েছে ডিএমপির ডিবি, ডগ স্কোয়াড, বোম ডিসপোজাল ইউনিট। পোশাকধারী পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।

এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কৃঞ্চ পদ রায় জানান, রাজধানীর নিরাপত্তায় পূর্ণ শক্তিকে কাজে লাগানো হয়েছে। পুরো রাজধানী নিরাপত্তা বলয়ে রয়েছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা শুধু রাষ্ট্রপ্রধান নয়, দেশ ও দেশের বাইরে থেকে আসা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সফরসূচি কেন্দ্র করে র‌্যাব অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা সরকারপ্রধানের আসা কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতা যাতে না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

অতিথিদের আগমন সূচিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যেসব স্থান রয়েছে সেখানে র‌্যাব তিন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানগুলোতে র‌্যাব সদস্যদের দৃশ্যমান উপস্থিতি, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং করা হচ্ছে।

বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা মোদি বিরোধী বক্তব্য, সভা-সমাবেশসহ এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাদের প্রতি এসব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। সর্বত্র পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যও মোতায়েন রয়েছে।

যেসব সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে

নরেন্দ্র মোদির আগমন উপলক্ষে বাস পরিবহনগুলোর মালিক ও শ্রমিকদের ২৬-২৭ মার্চ রাজধানীতে সীমিত আকারে যানবাহন চালানোর মৌখিক নির্দেশনা দেয় হয়েছে। সময় ও সুযোগ বুঝে পরিবহনগুলোর মোট বাসের ৫ থেকে ১০ শতাংশ বাস চালাতে বলা হয়েছে।

ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ জানান, সীমিত আকারে বাস চালানোর একটা নির্দেশনা রয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার এমনিতেও সড়কে মানুষের চলাচল কম থাকে। দেশের স্বার্থে সরকারের যেকোনো পদক্ষেপের পাশে রয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, আজ শুক্রবার (২৬ মার্চ) ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসার প্রথম দিনে বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে সাভার, ধানমন্ডি ৩২, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে তার যাতায়াত থাকবে।

এর ফলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ ভিভিআইপিদের চলাচলের আগে-পরে সেসব সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এবং চলাচলের সময় সেসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

২৬ মার্চ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদিসহ ভিভিআইপিদের ব্যবহৃত সম্ভাব্য সড়কগুলো হচ্ছে- বিমানবন্দর সড়ক, গাবতলী-আমিনবাজার-সাভার, ধানমন্ডি-মিরপুর সড়ক হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। এরপর ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে প্যারেড স্কয়ার, সবশেষে প্যারেড স্কয়ার থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল।

নরেন্দ্র মোদির গোপালগঞ্জ ও সাতক্ষীরা সফর

শনিবার (২৭ মার্চ) রাজধানী ছাড়াও নরেন্দ্র মোদির গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি ও কাশিয়ানী উপজেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ইতোমধ্যে সেখানেও তাকে স্বাগত জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে উলু ও শঙ্খধ্বনি দিয়ে এবং ডঙ্কা ও কাঁসা বাজিয়ে মতুয়া ধর্মাবলম্বীরা নরেন্দ্র মোদিকে বরণ করবেন বলে জানা গেছে।

একই দিন সাতক্ষীরায় হিন্দু মন্দিরও পরিদর্শন করবেন মোদি।

এছাড়া বাংলাদেশ সফরে তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এ সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকগুলো চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অন্যতম। এছাড়া তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারত দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে আসবে বলেও জানা গেছে। এমনটাই আভাস দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন