সিন্ডিকেট চক্র কৌশল পরিবর্তন করেছে!

প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২১ / ০৭:০৫অপরাহ্ণ
সিন্ডিকেট চক্র কৌশল পরিবর্তন করেছে!

কুড়িগ্রামের উলিপুরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের এককালীন প্রণোদনার টাকা বিতরণে বিস্তর অনিয়মের অ’ভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ ‘প্রণোদনার টাকায় কর্মকতার্দের ভাগ’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সংবাদ প্রকাশের পর থেকে ধীরে-ধীরে আরো অনিয়মের খবর বেড়িয়ে আসা শুরু হয়েছে। তবে এবার চিরাচরিত নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কৌশল পরিবর্তন করেছে সিন্ডিকেট চ’ক্র।

হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার টাকা। আর এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অ’ভিযোগ করেছেন ভুক্তভুগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের এককালীন প্রণোদনার তালিকা তৈরির দায়িত্ব পান সাহেবের আলগা ইউনিয়নের টিকা প্রদানকারী (ভ্যাক্সিনেটর) রিপন মোল্লা।

তিনি ওই ইউনিয়নে ১৫৩ জন সুবিধাভোগীর নামের তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। এ সুযোগে প্রণোদনার টাকা বিকাশে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নতুন সিম কিনে নেন রিপন।

পরে এসব সিম তার কাছে রেখে দেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে এসব সুবিধাভোগীর উল্লেখিত মোবাইল নম্বরে টাকা আসলে রিপন মোল্লা ক্যাশ আউট করে তাদের প্রত্যেককে ৫ থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দেন।

এতে করে সুবিধাভোগীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী উপজেলা নিবার্হী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

মহামারী করোনাভা’ইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের এককালীন প্রণোদনার ঘোষণা করে সরকার। এ সুযোগে উলিপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের সাথে সম্পৃক্ত একটি সিন্ডিকেট চক্র নাম তালিকাভুক্তির জন্য বিভিন্ন পন্থায় লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আর এসব জেনেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ।

সূত্র জানায়, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ২ হাজার ৬৩০ জন খামারির তালিকা অ্যাপস-এর মাধ্যমে পাঠানো হয়। এতে বরাদ্দ ধরা হয় ২ কোটি ৭৯ লাখ ৬৬ হাজার ৬২৫ টাকা।

এই তালিকা তৈরি করেন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ের মনোনীত সিন্ডিকেট একটি চক্র। গত ১৭ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ক্যাটাগরির মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সর্বনিম্ন ১০ হাজার এবং সবোর্চ্চ ২২ হাজার ৫০০ প্রণোদনার টাকা পান।

অভিযোগকারী শাহিনুর মোল্লা, আবু সাঈদ, ছিদ্দিক, সাহেরা বেগমসহ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, রিপন মোল্লা সুবিধাভোগিদের প্রণোদনার কারো অর্ধেক, আবার কারো পুরো টাকা টাকা হাতিয়ে নেন।

এসব টাকা অফিসের স্যারদের দিতে হবে বলে জানান। কেউ টাকা না দিলে পরবর্তীতে তাদের অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে না জানিয়ে নানান ভয়ভীতি দেখান।

অভিযোগের বিষয়ে টিকা প্রদানকারী (ভ্যাক্সিনেটর) রিপন মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শুধু ১৫৩ জনের তালিকা করে অফিসে পাঠিয়েছি। এ সম্পর্কে কোনো কিছু জানিনা,ওটা অফিস জানে। তবে এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ হিসেবে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আজিজ প্রধান বলেন, রিপন মোল্লার কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে, কিন্ত তিনি অস্বীকার করেছেন। আমাদের লোক গিয়ে ওইসব সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

তবে অভিযোগ দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন