‘লুকিয়ে লুকিয়ে’ সংলাপটা এই প্রজন্ম পজিটিভলি নিয়েছে : অঞ্জনা

প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২১ / ১১:২৮অপরাহ্ণ
‘লুকিয়ে লুকিয়ে’ সংলাপটা এই প্রজন্ম পজিটিভলি নিয়েছে : অঞ্জনা

এখন আমি যেখানেই যাই, ‘শুনতে পাই লুকিয়ে লুকিয়ে…’ সেদিন একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। একঝাঁক মেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরল প্রায়। বলল, আপা আমরা আপনার ‘লুকিয়ে লুকিয়ে…’ সংলাপটা সবখানে বলি। আমার বন্ধুদের প্রেম করতে দেখলেই বলি, ‘কি রে লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম?’ আমি তাদের কথা শুনে বেশ মজা পাই। শুধু এটাই নয়- এই প্রজন্ম আমার ‘লুকিয়ে লুকিয়ে’ সংলাপটা বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করেছে।

বলছিলেন চিত্রনায়িকা অঞ্জনা। একসময় রুপালি পর্দা কাঁপিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা শহর আইসা আমার আশা ফুরাইছে খ্যাত অঞ্জনা।

অঞ্জনা বলেন, চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি আমাকে সব দিয়েছে। তৃপ্তি পেয়েছি এই প্রাপ্তিতে। যখন নায়িকা ছিলাম তখন এক ধরনের ভালো লাগা ও সন্তুষ্টি ছিল- এখন এই সময়েও মানুষ আমাকে কতটা ভালোবাসে এটা ভেবে আমি কখনো পরবাসী হতে চাইনি। অনেকেই তো বিদেশে চলে গেছে। আমি এই দেশের মাটি আঁকড়েই পড়ে থাকব।

অঞ্জনা আরো বলেন, এই প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা আমাকে ভীষণ পছন্দ করে। এর কারণ আমি জানি না। তবে এই প্রজন্মের সঙ্গে যোগসূত্র যাই হোক না কেন, ওই যে লুকিয়ে লুকিয়ে সংলাপটা পজিটিভলি মানুষ নিয়েছে যে কি বলব। অথচ প্রথমের দিকে খুব মন খারাপ হতো। দেখেন এই সময়ের একটা ভালো ছবি পোস্ট করলেও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এক শ্রেণী বাজে কথা বলে, মন্তব্য করে। অথচ আমাকে এতটাই পছন্দ করে কেই নেতিবাচক কথা বলে না। কোথাও গেলেই শুনতে হয়- ‘এই দেখ লুকিয়ে লুকিয়ে’- তারা হেসে গড়িয়ে পড়ে। পরে এসে আমার সঙ্গে কথা বলে। বলে ‘আপা আপনাকে আমাদের ভীষণ পছন্দ’। এভাবেই আমার সংলাপটা মুখে মুখে ছড়িয়ে গেছে। এই প্রজন্ম আমাকে গ্রহণ করেছে এটাও খুবই পজিটিভ।

কিছুদিন আগে অঞ্জনা একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অংশ নেন। সেখানেই সংলাপ ছিল ‘লুকিয়ে লুকিয়ে আসা…’ প্রথমদিকে এটি নিয়ে খুব খারাপ লেগেছিল। এখন আর সেই বোধ নেই।

অঞ্জনা দুবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তিনি ১৯৭৬ সালে শামসুদ্দীন টগর পরিচালিত ‘দস্যু বনহুর’ সিনেমার মাধ্যমে অঞ্জনা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আসেন। তিনি প্রায় ১০০টির কাছাকাছি ছবিতে অভিনয় করেছেন। যদিও অঞ্জনা চলচ্চিত্রে আসার বিষয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চান সোহেল রানার প্রতি।

একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঞ্জনা বলেন, আমি যখন ছোট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ফাংশনে নৃত্যে অংশ নেই। তখন সোহেল রানা ভাই আমাকে বলেন ‘তুমি বড় হলে তোমাকে নায়িকা বানাব’। সোহেল রানা ভাই তখন ইকবাল হলের (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ভিপি। আমি সোহেল রানা ভাইয়ের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। পরে তো নায়িকা হলাম।

অঞ্জনা ১৯৮৫ সালে এক প্রতিযোগিতায় এশিয়ার সেরা নৃত্যশিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হন। এই অভিনেত্রী ৯টি ভাষার ছবিতে অভিনয় করেছেন। বর্তমানে তিনি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন