‘কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে পাকিস্তান জাতিসংঘ পৌঁছানো মোদির কূটনৈতিক ব্যর্থতা’

কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে পাকিস্তান জাতিসংঘ পর্যন্ত পৌঁছানোকে বিজেপি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপের বিষয়ে ভারতীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠকে কাশ্মীরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে চীন।

মোদি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণেই ৫০ বছর পর কাশ্মীরের বিষয়টি জাতিসংঘে উপস্থাপিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের মুখপাত্র অভিষেক মনু সিংভি। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুটি এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলে গেছে। এটি ভারত সরকারের কূটনৈতিক ও কৌশলগত ব্যর্থতা।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পরমাণু নীতি বদলানোর যে হুমকি দিয়েছেন তা স্পষ্ট করারও আহ্বান জানান কংগ্রেস মুখপাত্র। কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন ও সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্তের শুরু থেকে বিরোধীতা করে আসছে কংগ্রেস। মোদি সরকারের এমন সিদ্ধান্ত ভারতীয় সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।

৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। লাদাখ ও কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল আনা হয়। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও তাদের ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার অভাবে লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই কক্ষে বিলটি পাস হয়।

এ নিয়ে প্রথম থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। এটা ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত, এই অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয় তারা। বিষয়টি জাতিসংঘে তোলার আবেদন করে পাকিস্তান। কিন্তু এতে কাজ না হওয়ায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি চিঠি দেন নিরাপত্তা পরিষদে। জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মালেহা লোদি চিঠিটি নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি জোয়ানা রোনেকাকে দেন। পরে কুরেশি সমর্থন আদায়ে চীন সফর করেন।

শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যালয়ে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বৈঠকটি হয়। ১৯৬৫ সালের পর কাশ্মীর নিয়ে দ্বিতীয়বার রুদ্ধদ্বার বৈঠক এটি। কাশ্মীর নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকের বিষয়টিকে তাদের কূটনৈতিক জয় হিসেবে দাবি করেছে পাকিস্তান।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত