যুবক ঝুলেছিলেন ৩০ ফুট উঁচু পিলারের ওপর

প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২১ / ০৮:১৯অপরাহ্ণ
যুবক ঝুলেছিলেন ৩০ ফুট উঁচু পিলারের ওপর

মাগুরার মহম্মদপুরে পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদারের গাফিলতিতে আবু রায়হান (২৫) নামের এক লাইনসম্যানের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার বালিদিয়া বাজারে ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনে সংযোগের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৩০ ফুট উঁচুতে ঝুলেছিলেন তিনি।

মাগুরার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম কোটনের অসতর্কতার কারণে রায়হান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছে রায়হানের সহকারী ও স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয় লোকজন ঠিকাদারকে আটক করে মহম্মদপুর থানা পুলিশের কাছে প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা না করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে রায়হানের পরিবার সমঝোতা করেছে বলে জানা গেছে।

রায়হান মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালি ইউনিয়নের চালিমিয়া গ্রামের আব্দুস কুদ্দুস কাজীর ছেলে।

রায়হানের সহকারী হাবিবুর রহমান জানান, রায়হান মাগুরা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম কোটনের অধীনে প্রতিদিন ৪০০ টাকা বেতনে কাজ করেন।

শনিবার দুপুর থেকে মহম্মদপুরের বিনোদপুর এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনে আগুন লাগার কারণে বন্ধ ছিল। ঠিকাদার মহম্মদপুর জোনাল অফিসে বিদ্যুৎ বন্ধ করতে বলার প্রয়োজন মনে করেননি। এমন অবস্থায় রায়হানকে কাজ নির্দেশ দেন।

রায়হান মহম্মদপুর বালিদিয়া বাজারে একটি রাইচ মিলের নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের জন্য ৩০ ফুট উঁচু পিলারের ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনে কাজ শুরু করেন। কাজ চলা অবস্থায় হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলে তিনি পিলারের ওপরের তারের সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঝুলেছিলেন।

এ সময় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে মহম্মদপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এসে তাকে উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাজী আবু আহসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মহম্মদপুর পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের এজিএম মো. রেজাউল করিম বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে বিনোদপুর এবং আলোকদিয়া এলাকায় ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনের ইনসুলেটার ফেটে গিয়ে ক্লাসহার্ময়ে আগুন লাগার কারণে বিদ্যুৎ সাময়িক বন্ধ ছিল। বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার কারণে ঠিকাদার আমাদের অবহিত না করে লাইনসম্যান রায়হানকে দিয়ে কাজ করাচ্ছিলেন।

রায়হানের কাকা ইদ্রিস আলী জানান, থানা থেকে রায়হানের স্ত্রী সুলতানা বেগম ঠিকাদার কোটনকে ছাড়িয়ে এনেছেন। পরে এলাকার ব্যক্তিদের মাধ্যমে এক লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করা হয়েছে।

মহম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মামুন বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় ঠিকাদারকে আটক করে হয়েছিল। পরে তাকে রায়হানের পরিবারের জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন