বার বার ছেলে সন্তান, হ’ত্যা’র পর ডো’বায় ফেললেন বাবা

প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২১ / ১২:২২পূর্বাহ্ণ
বার বার ছেলে সন্তান, হ’ত্যা’র পর ডো’বায় ফেললেন বাবা

তিন ছেলের পর চতুর্থ ছেলের জন্ম দেন বদরগঞ্জের ফরিদা বেগম। ফরিদার স্বামী হামিদুরের প্রত্যাশা ছিল এবার তার কন্যা সন্তান হবে। হাসপাতালে হামিদুরের স্ত্রী ফরিদা বেগম ছেলে সন্তানের জন্ম দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন হামিদুর রহমান। জন্মের ৪৮ দিনের মাথায় ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটিকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায় হামিদুর। পরে শিশুটিকে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেন। পরে এলাকায় প্রচার করেন জীন বা ভূতে তার শিশু সন্তানকে তুলে নিয়ে হ’ত্যা করেছে।

মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (৮মার্চ) রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপিনাথপুর ইউপির আরাজি দিলালপুর বানিয়াপাড়া নামক গ্রামে। পরে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে বাবা ও মাকে আটক করে।

গত মঙ্গলবার রংপুরের বদরগঞ্জ আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় শিশুটির বাবা হামিদুর রহমান। এ সময় তিনি নিজের সন্তানকে হ’ত্যা’র কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে জে’লহাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা নুরুল ইসলাম বদরগঞ্জ থানায় ছেলে হামিদুরের বি’রু’দ্ধে নাতিকে হ’ত্যা করার ঘটনায় মা’ম’লা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা ফরিদা বেগম গত রবিবার সন্ধ্যায় ঘুমন্ত শিশু সুয়িম বাবুকে ঘরে রেখে বাইরে বাইরে যান। ফিরে এসে দেখেন ঘর অ’ন্ধ’কার। কিন্তু শিশুটি নেই। পরে হামিদুর রহমানকে খবর দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিখোঁ’জের বিষয়টি জানানো হয় স্থানীয় পুলিশকে। সারারাত কোথাও শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরের দিন সোমবার ভোরের দিকে বাড়ির পাশে একটি ডোবায় শিশুটির ম’র’দেহ পড়ে থাকতে দেখে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে পুলিশ এসে শিশুটির ম’র’দেহ উ’দ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ওই সময় শিশুটির মা ফরিদা বেগম ও বাবা হামিদুর রহমানকে আ’ট’ক করে থানায় নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুর নিজের সন্তানকে হ’ত্যা’র কথা স্বীকার করে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

স্বজনরা জানান, হামিদুর রহমান পার্বতীপুর উপজেলায় একটি স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী। তার প্রত্যাশা ছিল এবারের সন্তানটি হবে মেয়ে। কিন্তু ছেলের জন্ম হওয়ায় ক্ষু’ব্ধ হন তিনি। জন্মের পর থেকে শিশুটিকে হ’ত্যা’র পরিকল্পনা করে সে। ঘটনার দিন তিনি কর্মস্থল থেকে আগাম ছুটি নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। পরে তিনি স্থানীয় লালদীঘি হাটে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু তিনি হাটে না গিয়ে বাড়ির এক কোনে লু’কিয়ে ছিলেন। স্ত্রী ফরিদা বেগম শিশুটিকে ঘরে রেখে বাইরে যায়। ওই সময় ঘুমন্ত শিশুটিকে ঘর থেকে এনে হ’ত্যা’র পর ডো’বায় ফেলে হাটে চলে যায় তিনি। এর কিছুক্ষণ পর ফরিদা ঘরে গিয়ে সন্তানকে না পেয়ে হামিদুরকে খবর দেন। কিছুক্ষণ পর এসে হামিদুর স্ত্রীকে বলেন, হয়তো জীন বা ভূ’তে শিশুটি নিয়ে গেছে। পরে ফেরত দিয়ে যাবে।

সন্তান হারিয়ে ফরিদা বেগম কা’ন্না’জ’ড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আগের তিন ছেলে জন্ম হলেও আমি পরে ছেলেটি বদল করতে রাজি হইনি। কিন্তু আমার স্বামী চতুর্থ ছেলেকে যে গো’প’নে হ’ত্যা’র পরিকল্পনা করবে তা আমার ধারনাই ছিল না।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন