কোম্পানীগঞ্জে থমথমে অবস্থা (ভিডিও)

প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২১ / ১০:০৯অপরাহ্ণ
কোম্পানীগঞ্জে থমথমে অবস্থা (ভিডিও)

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলির ঘটনায় আলাউদ্দিন (৩২) নামে এক যুবলীগ কর্মী নিহত হওয়ার পর গভীর রাতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

বুধবার বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবত থাকে। প্রশাসনের ১৪৪ ধারা ঘোষিত হওয়ার পর কার্যত অচল হয়ে যায় বসুরহাট পৌরসভা এলাকা। সমগ্র এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করে।

বুধবার দূরপাল্লার যানবাহন না চললেও দুপুরের পর যান চলাচল ছিল খুব সীমিত। বসুরহাট বাজারে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ক্ষুদ্রশিল্প বন্ধ ছিল। দুপুর ২টার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে।

র্যা ব-পুলিশ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এখনো অবস্থান করছে। বিকালে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান ও নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বসুরহাটে আসেন।

এদিকে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি, পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধ হয়ে অর্ধশতাধিক হতাহতের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এদের গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বাদী হয়ে ৯৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃতদের বুধবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে নোয়াখালী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি জানান, বসুরহাট বাজারে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় সংঘর্ষকারীরা পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করে। একই সময় তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তিনিসহ (ওসি) বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আহত করে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আটককৃতরা ছাড়াও অভিযুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত যুবলীগ কর্মী আলাউদ্দিনের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে উপজেলার চরকালী গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। বিকাল সাড়ে ৫টায় জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত আলাউদ্দিনের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে আনার পর হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

এ সময় তার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আর্তনাদে চারদিকের আকাশ ভারি হয়ে ওঠে। এ সময় উপস্থিতরাও তাদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন