৪ লাখ টাকায় বিক্রি হল এক ‘সোনালী’ পোঁয়া মাছ

প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২১ / ১২:০৩অপরাহ্ণ
৪ লাখ টাকায় বিক্রি হল এক ‘সোনালী’ পোঁয়া মাছ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বঙ্গোপসাগর উপকূলে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ৪৪ কেজি ওজনের একটি লাল পোঁয়ামাছ বা সোনালী পোঁয়ামাছ। যেটি বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকায়। প্রতি কেজির দাম পড়েছে ১০ হাজার টাকা করে।

মাছটির মালিক ও বাঁশখালী গন্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনার মো. তাফসির শিকদার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের ফিসারীঘাটে বিশাল আকৃতির ওই লাল পোঁয়ামাছটি বিক্রি হয়েছে।

তাফসির জানান, তার মালিকানাধীন শিকদার ফিশিং এর এফবি-১ এর জেলেরা ৮ মার্চ সকালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরছিল। ওই সময় তাদের জালে বিশাল আকৃতির লাল পোঁয়া মাছটি ধরা পড়ে। পরে জেলেরা ওই দিন রাতে বাঁশখালী গন্ডামারা পূর্ব বড়ঘোনা যুব বাজার মৎস্যঘাটে ফিরে আসে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকালে মাছটি চট্টগ্রামের ফিসারীঘাটে নেয়া হলে একজন ক্রেতা তা ৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় কিনে নেন। তবে ক্রেতার নাম ঠিকানা তিনি কিছুই জানাতে পারেননি।

মাছের মালিক মঙ্গলবার বলেছেন, মাছটি আরো বেশী দামে বিক্রি করা যেত। এই মাছের যে বায়ুথলি তার দামই অনেক বেশি। যেটি সার্জারীসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হয়।

এত দামে মাছ বিক্রি হওয়ায় মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

বিশাল আকৃতির মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়া ও অধিক মুল্যে বিক্রি হওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে মেরীন ফিসারীজের চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক নাজিম উদ্দিন বলেন, এই মাছের যে বায়ুথলি রয়েছে তার দাম অনেক বেশি। ওই বায়ুথলি সার্জারীর কাজে ব্যবহার হয়, সে কারণেই মুলত মাছটি বেশী দামে বিক্রি হয়েছে।

সামদ্রিক মৎস্য জরিপ ব্যবস্থাপনা ইউনিট চট্টগ্রামের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদ পারভেজ মঙ্গলবার বিকালে জানান, সমুদ্রের ওই মাছকে সী-গোল্ড বালা হয়। মাছটির ঔষধি গুণাগুন রয়েছে। এই ধরণের মাছ সাধারণত ১.৫ মিটার লম্বা ও তার ওজন ৩০/ ৪০ কেজির উপরে হয়ে থাকে। তার বায়ুথলি বা পোটকা খুব মুল্যবান যা সার্জারীর কাজে ব্যবহার হয়। এই ধরণে পুরুষ মাছের দাম আরো বেশী হতে পারে।

তিনি বলেন, এক কেজি বায়ুথলি ৫/ ৬ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। সে কারণেই মুলত ওই মাছটি এতো বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন