পুলিশের সমালোচনাকারীদের মুখে ছাই পড়ুক: আইজিপি

প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২১ / ০৪:১৩অপরাহ্ণ
পুলিশের সমালোচনাকারীদের মুখে ছাই পড়ুক: আইজিপি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ কারো প্রতিপক্ষ নয়। তবু কিছু মানুষ পুলিশকে প্রতিপক্ষ ভেবে থাকে। ওই ছোট একটা গ্রুপ যারা দেশের কোনো ভালো কিছু দেখেন না এবং সমালোচনা করেন। যারা দেশের ও পুলিশের সমালোচনা করে তাদের মুখে ছাই পড়ুক।’

সোমবার রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে-২০২১’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পুলিশ প্রধান। প্রতিবছর কর্মস্থলে নিহতদের স্মরণে ১ মার্চ পুলিশ মেমোরিয়াল ডে আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, যারা দেশের ও পুলিশের সমালোচনা করে তাদের মুখে ছাই পড়ুক। দেশের মধ্যে যে একটা ছোট অংশ আছে সেটা দেখলেই বোঝা যায়। কারণ দেশের কোনো ভালো কিছুর প্রতি তাদের আগ্রহ নেই, দেশের কোনো অর্জনে তাদের কিছু আসে যায় না।

এই দেশের ভিন্ন সংস্কৃতির, ভিন্ন চেতনার মানুষগুলো আমাদের দেশের মানুষ হিসেবে দাবি করে। এই মানুষগুলোকে আমাদের দেশের বৃহত্তর জাতিসত্তা থেকে আলাদা করার সময় এসেছে। এরা আমাদের জাতির অংশ নয়।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, পুলিশকে কেন প্রতিপক্ষ বানানো হয়? এই প্রশ্ন শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশের মানুষের প্রতি।

পুলিশ প্রধান বলেন, পুলিশ তো কারো প্রতিপক্ষ নয়। ওই ছোট একটা গ্রুপ যারা দেশের কোনো ভালো কিছু দেখেন না এবং সমালোচনা করেন তাদের এমনকি তারা পুলিশের সমালোচনা করেন তাদের মুখে ছাই পড়ুক। এ দেশের প্রকৃতিতে যারা বড় হয়ে ছুরি মারতে চায় তাদের মুখে আমরা দেশবাসী সবাই মিলে ছাই ছুঁড়ে দিতে চাই।

বেনজীর আহমেদ বলেন, যুদ্ধের সময় কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধ লাগে তখন বিকল্প ফোর্স যুদ্ধ করে। আর যখন শান্তির সময় থাকে তখন দেশের মধ্যে দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে, বনশত্রুদের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে এবং রাষ্ট্রকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য পুলিশ যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধ ক্রমাগত, অবিগত ও অবিরাম। আর যুদ্ধ হলেই অবিরামভাবে আসে মৃত্যু। সে কারণে প্রতি বছর আমাদের ডজন ডজন সহকর্মীকে হারাই।

পুলিশের মহাপরিদর্শক আরও বলেন, পুলিশের এই মৃত্যুর মিছিল, শাহাদাতবরণকারীদের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। আমরা আর কোনো মৃত্যু দেখতে চাই না। আমাদের পরিবারবর্গও মৃত্যু দেখতে চায় না। কিন্তু তারপরেও আমরা দেশের প্রয়োজনে যে শপথ নিয়েছি সে শপথের প্রয়োজনে, পেশাগত দায়িত্বের প্রয়োজনে জনগণের প্রতি ভালোবাসা, দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রয়োজনে আমাদের সহকর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।

এই করোনাকালেও পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ৮৫ জন সদস্যকে আমরা হারিয়েছি। সেই সঙ্গে করোনাকালে প্রায় ২১ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, সুস্থ হয়েছেন এবং আবার সুস্থ হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

করোনাকালীন কৃষকদের ধান কাটতেও পুলিশের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বাহিনীটির প্রধান বলেন, ‘এমনকি করোনাকালীন সময়ে কৃষকের ধান কাটাতেও সহায়তা করেছে পুলিশ সদস্যরা। দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষক খুঁজে পুলিশের গাড়িতে করে ধান কাটার জন্য পুলিশ সহায়তা করেছে।’

‘যেকোনো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পুলিশ সম্মুখসারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করে। বাংলাদেশ পুলিশ তাদের দক্ষতা ও দৃঢ়তার যে সাক্ষ্য দিয়েছে তা দিয়ে তারা জনগণের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে।- যোগ করেন আইজিপি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই মেমোরিয়াল ডে’র সঙ্গে আরেকটি উৎসব উদযাপন করে সেটি হচ্ছে ‘ব্লু রিবন ডে’। মূলত ওই দিন দেশবাসী পুলিশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ব্লু রিবন পুলিশকে পরিয়ে দেয়, নিজেরা গাড়িতে, বাড়িতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নীল রঙে সাজায়। আগামী বছর থেকে এই অনুষ্ঠানটি চালু করতে চাই।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন