সংবাদ সম্মেলনে মেজাজ হারালেন মাশরাফি!

সাধারণত বাংলাদেশের ক্রিকেটের শান্ত স্বভাবের ব্যক্তিত্ব মাশরাফি বিন মর্তুজা। টাইগার দলপতি শনিবার তাঁর মেজাজ হারিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে। তাকে সবসময়ই দেখা যায় শীতল মস্তিষ্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মোকাবেলা করতে।

মাশরাফির আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে যারা নিয়মিত থাকেন দেখে থাকবেন, মাশরাফি সবসময় সংবাদ সম্মেলনে মজা করে থাকেন, কৌতুক করেন, জুনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে রসিকতা করেন। এভাবেই তিনি সবাইকে মাতিয়ে রাখেন।

কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এমনটি হয়নি। একজন সাংবাদিক নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২ উইকেটে হারা ম্যাচে মাশরাফির ফিল্ডিং কৌশল নিয়ে প্রশ্ন করেন।

৩৩ বলে মাত্র ২৩ রান প্রয়োজন ছিল। সেই সময় মাত্র ৩ উইকেট হাতে ছিল নিউ জিল্যান্ডের। মিচেল স্যান্টনার টাইগার পেসার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বলে চার মেরে ম্যাচের উত্তেজনা অনেকটাই কমিয়ে দেন।

সেই সময় যদি স্লিপে কোনো ফিল্ডার থাকতো তবে, সেই সময়ই সাজঘরে ফিরতে পারতেন স্যান্টনার। যেসময় আক্রমণাত্মক ফিল্ডিংয়ে কিউইদের চেপে ধরার কথা।

সেই সময় স্লিপ না থাকা মাশরাফির প্রতিরক্ষামূলক কৌশলকেই নির্দেশ করে। সেই সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন এই প্রতিরক্ষামূলক কৌশলে কিভাবে ইংল্যান্ডকে বেঁধে রাখবেন মাশরাফি?

যেখানে ইংল্যান্ড আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করে। প্রশ্নটি ঠিক ভাবে শেষ করার আগেই মাশরাফি, কঠিন ভাষায় এর উত্তর দিয়েছেন। যা অনেকটাই অস্বাভাবিক ছিল।

‘ইংল্যান্ড যে ধরনের ক্রিকেট খেলে, ওদের সাথে ডিফেন্সই অফেন্স হবে। কারন ওরা, আপনি গত চার বছর দেখেন, যে কোনো অবস্থাতেই ওরা আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলে। ওরা সবসময় চায় সাড়ে তিনশ থেকে চারশ রানে যেতে। আমরাও অনেকবার আলোচনা করেছি, ইংল্যান্ড সবসময় ডিফেন্সে থাকবে। সুতরাং ওদের ক্ষেত্রে ডিফেন্সই অফেন্স।’

সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি জানিয়েছেন আক্রমণাত্মক ফিল্ডিংই তিনি সাজিয়েছিলেন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। ম্যাচের প্রয়োজন অনুযায়ীই নিজেদের ফিল্ডিং সাজিয়েছিলেন তিনি।

‘আর হারলে কোনটা ডিফেন্স কোনটা অফেন্স হয়ে যায় আপনাদের কাছে, জানি না। আপনারা অ্যানালাইসিস তো কম পারেন না আমাদের থেকে। কোথায় অ্যাটাক করতে হবে সেটাও আপনারা ভালো বোঝেন। হারলেই আপনার প্রশ্ন পাল্টে ফেলেন। তবে হ্যা, শেষ ম্যাচে ডিফেন্সিভ কোথাও ছিল না। কখনো কখনো পাঁচটা ফিল্ডার ওপরে ছিল। উইকেট নিতে হলে যাকে অ্যাটাক করা দরকার তাকে অ্যাটাক করা হয়েছে।’

‘আর দিন শেষে এটা নির্ভর করে বোলারের ওপর। বোলার কি ফিল্ডিং চায় সেটা আসল। সব কিছু মাথায় রেখেই ফিল্ডিং সাজাতে হয়। শুরুর দিকে কেন উইলিয়ামসন-টেলর যখন ব্যাট করছিল, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সাকিব মিড অন, মিড অফ উপরে রেখে বল করেছে। আমার মনে হয় আপনারা পুরো ম্যাচটা ভালোমত অ্যানালাইসিস করলে ভালো বুঝতে পারবেন। শুধু ফলাফলের দিকে না তাকিয়ে কথা না বলাই ভালো।’

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত