তেলের ট্যাঙ্কারে হামলায় একটি দেশের সরকারের হাত আছে: আরব আমিরাত

অন্তর্ঘাতমূলক হামলায় জাহাজ চারটির ক্ষয়ক্ষতির এসব ছবি জাতিসংঘকে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ছবি রয়টার্সের

নিজেদের উপকূলে গতমাসে চারটি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনায় ‘একটি দেশের সরকারের হাত আছে’ বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

১২ মের ওই হামলা ‘অত্যাধুনিক ও সমন্বিত অভিযানের’ চিহ্ন বহন করছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দেওয়া প্রতিবেদনে তারা এমনটাই বলেছে।

মাসখানেক আগের ওই হামলায় আরব আমিরাতের পাশাপাশি সৌদি আরব ও নরওয়ের নৌযানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করলেও জাতিসংঘে দেওয়া প্রতিবেদনে আরব আমিরাত কোনো রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করেনি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

তেহরান শুরু থেকেই তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।

হরমুজ উপত্যকার বাইরে আরব আমিরাতের জলসীমায় ফুজাইরার পূর্ব অংশে ১২ মে ওই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

চারটি জাহাজ এ ‘অন্তর্ঘাতমূলক হামলায়’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে পরে নিশ্চিত করে আমিরাত কর্তৃপক্ষ।

এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পরে সৌদি আরব জানায়, ফুজাইরা উপকূলে ওই হামলায় তাদের দুটি জাহাজের ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।

বাকি দুই ট্যাঙ্কারের একটি নরওয়েতে নিবন্ধিত; অন্যটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী বলে বিবিসি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এ হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও এর মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের বিস্তৃত তৎপরতার অংশ হিসেবেই দেখছে।

তেহরানে ক্ষমতা পরিবর্তনে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনও এ ‘অন্তর্ঘাতমূলক হামলার’ পেছনে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিকেই দায়ী করেছেন।

হামলার পেছনে যে তেহরান আছে- তা স্পষ্ট, বলেছেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বোল্টনের এ অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের তেল কেনা বেশ কয়েকটি বড় দেশকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র; গত মাসে ওই ছাড় বাতিল করা হলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।

তেহরানের তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নেয়; অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এ পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুঁশিয়ারি দেয়।

প্রয়োজন পড়লে হরমুজ উপত্যকা বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও সতর্ক করে তারা।

উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ওই এলাকায় অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী ও বোমারু বিমান পাঠিয়েছে। ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী তালিকায়ও অন্তর্ভুক্ত করেছে তারা।

পাল্টা হুঁশিয়ারিতে তেহরান বলেছে, মার্কিন বাহিনী যে তাদের অস্ত্রের আওতার মধ্যেই রয়েছে তা কেবল কথার কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

২০১৫ সালে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির কিছু অংশের বাস্তবায়ন স্থগিত রাখারও ঘোষণা দিয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ওই চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়ে ইরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত