বছর ঘুরে আবারও এল খুশির ঈদ, ঘরে ঘরে আনন্দ

‘রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। বছর ঘুরে আবারও এল খুশির ঈদ। ২৯ দিনের সিয়াম সাধনা শেষে বুধবার বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ‘ঈদ মোবারক’।

ঘরে ঘরে চলছে ফিরনি-পায়েসের আয়োজন। মেহেদিতে হাত রাঙিয়েছে কিশোরী-তরুণীরা। সকালে নতুন জামা-জুতো-টুপি পরে সদলে ছুটছে সবাই ঈদগাহ কিংবা মসজিদের দিকে। ইতিমধ্যে ঈদের জামাত শুরু হয়ে গেছে।

রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এখানে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, কূটনৈতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নামাজ আদায় করবেন।

এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিকল্প ইমাম হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মিরপুর জামেয়া আরাবিয়ার শায়খুল হাদিস মাওলানা সৈয়দ ওয়াহীদুযযামান।

তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমে সকাল ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ডিএসসিসি ইতিমধ্যে জাতীয় ঈদগাহে লাখো মুসল্লির জন্য ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

ডিএমপির নেয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, জাতীয় ঈদগাহে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা জায়নামাজ ও ছাতা ছাড়া কোনো কিছু সঙ্গে আনতে পারবেন না। জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশ করার আগে প্রত্যেক মুসল্লিকে তিন ধাপে তল্লাশি করা হবে।

পাশাপাশি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদেও ঈদের পাঁচটি জামাত হবে। ইতিমধ্যে সকাল ৭টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং ১১টায় ঈদের আরও ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিবছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে সেখানে ঈদ জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন।

হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির কয়েক দফায় সভা হয়। ওইদিন চাঁদ দেখা যাওয়ায় বুধবার সারা দেশে ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

অবশ্য সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে।

ঈদের দিনটি ধনী-গরিব, আশরাফ-আতরাফ নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায়। এদিক থেকে ঈদ কেবল আনন্দের বার্তাই নিয়ে আসে না, উদ্ভাসিত হয় ইসলামের সাম্যের এক বড় পরিচয়ে।

স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শত দুর্ভোগ সত্ত্বেও ইতিমধ্যে বাড়ি পৌঁছে গেছেন অনেকে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দৈনিক পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, শিশুসদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা রয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কে আলোকসজ্জা, জাতীয় পতাকার সঙ্গে ঈদ মোবারক ও লা ইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর (রা.) খচিত পতাকা দিয়ে সড়ক দ্বীপগুলোর শোভাবর্ধন করা হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। বাণীতে তারা শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দেশবাসীর মঙ্গল কামনা করেছেন।

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশজুড়ে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত