তবে কি এবার ইরানের পতন হতে যাচ্ছে

ইরানের ‘অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোকে এক জোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। দেশটির তেলের স্থাপনায় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সহিংসতা নতুন করে বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে এ মন্তব্য করেছেন সৌদি বাদশাহ।

আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র মক্কা নগরীতে শুরু হওয়া আরব দেশগুলোর জরুরি সম্মেলনের শুরুতেই এ মন্তব্য করেছেন সৌদি বাদশাহ। এর মাধ্যমে তিনি ইরান ছাড়া উপসাগরীয় ও আরব বিশ্বের সুন্নি দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এই সম্মেলন শুরুর আগের দিন বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন বলেন, এ মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে সৌদি আরবের দুটি তেলের ট্যাংকারসহ চারটি জাহাজে নাশকতার ঘটনায় অবশ্যই ইরানের হাত রয়েছে। যদিও ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে সৌদি বাদশাহ বলেন, এ অঞ্চলে ইরান নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে দৃঢ় ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার অভাবে দেশটি ক্রমাগত সহিংসতায় উৎসাহিত হচ্ছে এবং নিজেদের শক্তিশালী করছে। যার ফল আজ দেখা যাচ্ছে। তেলের স্থাপনায় হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বোঝা যাচ্ছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর জোটের (জিসিসি) নিরাপত্তা ও অজর্নগুলো সংরক্ষণে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে আরব দেশগুলোকে।

এ সম্মেলনের আয়োজক হচ্ছে সৌদি আরব। রমজান মাসের শেষ সময়ে এই সম্মেলেনর আয়োজন করা হয়। পবিত্র রমজানের কারণে মক্কায় এখন হাজার হাজার মুসল্লি সমবেত হয়েছেন। ইফতার ও তারাবিহর নামাজের পর রাতে বৈঠকগুলো হচ্ছে। কাল শনিবার সম্মেলনের তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সামরিক সংঘাতময় পরিস্থিতির আশঙ্কার মধ্যে ইরানকে একঘরে করার লক্ষ্য নিয়ে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই মিত্র দেশের মাঝখানে পড়ে যাওয়া ইরাক ভিন্নমত পোষণ করেছে। ইরানের কর্মকাণ্ডের নিন্দা প্রকাশ করে আরব দেশগুলোর বিবৃতির বিরোধিতা করেছে ইরাক। দেশটি যুদ্ধের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।

সম্মেলনে সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত আরব ফ্রন্ট গঠনের ওপর জোর দেয়। এই সম্মেলনে প্রতিবেশী কাতারও উপস্থিত ছিল। দেশটির সঙ্গে সৌদি আরবের তিক্ততা রয়েছে। বৈঠকে কাতারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন নাসের আল-থানি। দেশটির ওপর দুই বছর ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞা চলছে। সম্মেলনে বাদশাহর সঙ্গে কাতারের প্রধানমন্ত্রীকে হাত মেলাতে দেখা গেছে। তবে এটা দুই দেশের মধ্যকার বরফ গলানোর কোনো আভাস দেয় না।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিসর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে কাতারকে ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে বর্জন করে চলেছে। ইসলামি জঙ্গি সংগঠন এবং ইরানকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশগুলো কাতারের সঙ্গে শিপিং, ব্যবসা, সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা, আকাশ ও স্থলপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যদিও কাতার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত