বিভিন্নভাবে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে যেভাবে টাকা গহনা লুট করে এই নারী!

কখনো তার নাম হয় নদী, কখনো ডাক্তার নওশীন বা সাদিয়া রহমান। হাবভাবে থাকে আভিজাত্যের ছাপ। চলাফেরা করেন প্রাইভেট গাড়িতে। দেখে বুঝার উপায় নেই এই নারী চোর চক্রের একজন সদস্য।

মূলত ধনী পরিবারকে টার্গেট করে তাদের বিষয়ে সব খোঁজ-খবর নিয়েই বাসায় যায় চক্রের এই সদস্য। সম্প্রতি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে আটক হয়েছেন চক্রের সদস্য তানিয়া শিকদার। জানিয়েছেন, কিভাবে বাসার লোকজনদের বোকা বানিয়ে অভিনব উপায়ে সর্বস্ব লুট করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বেশ কয়েকবছর ধরে থাকেন সাবেক ব্যাংকার খলিলুর রহমান। গত ১৯ মে সন্ধ্যার আগে মেয়ের বান্ধবী পরিচয় দিয়ে বাসায় আসে এক সুন্দরী তরুণী। বাসার ভেতরে বিভিন্ন ঘর ঢুকে পড়ে সে। তারপর সবাইকে বোকা বানিয়ে সব গহনা, টাকা লুট করে পালিয়ে যায় ঐ তরুণী।

খলিলুর রহমান জানান, ইন্টারকম ফোন করে বলে আমি আপনার মেয়ের বান্ধবী, বাসায় আসতে চাই। তারপর বাসায় এসে প্রায় ২০ হাজার টাকা ও গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়।

তার ঠিক ১০ দিন আগে একই কৌশল অবলম্বন করে বসুন্ধরা এলাকার আরেকটি বাসায় যান এই নারী। সেখানে লন্ডনে থাকা জাবিরের বন্ধু পরিচয় দেন তার স্ত্রীর কাছে। ভুলিয়ে-ভালিয়ে বেডরুমের আলমারী থেকে নিয়ে যান প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণ, ডায়মন্ডের একটি আংটি ও দুটি নেকলেস ও একটি রুপার হার।। সেই নারীর আসা যাওয়ার সব দৃশ্য মেলে সিসিটিভি ক্যামেরায়।

এমন ঘটনায় বিস্মিত জাবিরের স্ত্রী ফারাজানা তাসমী। বলেন, সে এতো কনফিডেন্টলি কথা বলে; আমি তাকে সন্দেহ করার মতো কোন সুযোগই পাইনি। অবস্থা এমন যে, আমি তাকে যে ধরণের প্রশ্ন করব সে তার উত্তর দিতেই তৈরী।

চোরচক্রের প্রধান তানিয়া শিকদার তানি বিভিন্ন জনের কাছে প্রতারিত হওয়ার পরই এই পেশায় নেমেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, তার ইচ্ছা ছিল নায়িকা হওয়ার। সেখান থেকেই মানুষ তাকে প্রতারিত করেছে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়েই তিনি চুরির পেশায় নামেন।
এর আগে আরও আট বার জেল খেটেছেন বলে জানান এই নারী।

চুরি করে আনা স্বর্ণ বিক্রি করা হতো উত্তরার মাস্কট প্লাজার একটি দোকানে। সেখান থেকে কিছু স্বর্ণ উদ্ধারও করা হয়। স্বর্ণ বিক্রিতে সহায়তা করে রেফায়েত নামে এক যুবক। রেফায়াত সহ তানিয়ার আরো ৪ সহযোগীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ- কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, এই নারী এর আগে আরও ১০-১২ টির মতো চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। দুইবার সন্দেহজনক ভাবে ধরা পড়ে জেল খেটেছে। এবার প্রমাণসহ পুরো চক্র আটক হওয়ায় জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
এছাড়া, এরকম চোরদের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ির লোকজনদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ পুলিশের এই কর্মকর্তার।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত