ক্রেতা সেজে বাজারে গেলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, অতঃপর

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে তীব্র গরম উপেক্ষা করে ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। জমে উঠেছে কেনাকাটাও। ঈদের এখনো বেশ কিছুদিন বাকি রয়েছে, কিন্তু ক্রেতারা বসে নেই। এরই মধ্যে ক্রেতা সেজে ঈদের বাজারে ঢুকেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

পাশাপাশি ঈদের বাজারে সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল পরিবেশে বজায় রাখার লক্ষ্যে ঝালকাঠিতে প্রস্তুতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রোববার সকালে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হকের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি কমিটির সভায় সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ঝালকাঠি শহরের কুমারপট্টি, মনোহরিপট্টি, কাপুড়িয়াপট্টি, কাঠপট্টির গলি, দুর্গাপ্রসাদ রোড, তামাকপট্টি, জয়নাল মার্কেট, খান সুপার মার্কেট ও বিপণি বিতানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়।

পোশাক, কসমেটিকস এবং জুতার দোকানগুলোতেও বেচা-বিক্রি বাড়ছে সমান তালে। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, বেচা-কেনা ততই বাড়ছে।

এরই মধ্যে ঈদ মার্কেটে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং জিনিসপত্রের দাম দেখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মো. ইজাজুল হক ক্রেতা সেজে বাজারে প্রবেশ করেন। ক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত দাম রাখা হয় কিনা সেটি দেখেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, মার্কেটে বিভিন্ন বয়সের পুরুষ ও নারীরা কেনাকাটা করতে আসেন। এ সময় একশ্রেণির কিশোরদের আগমন ঘটে তরুণীদের উত্ত্যক্ত করতে। পাশাপাশি ক্রেতাদের ভিড়ের সুযোগে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম রাখেন। এ ধরনের কাজ থেকে পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোবাইল কোর্ট টহল জোরদার করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে ইচ্ছামতো দাম না রাখেন সেজন্য সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

শহরের কাপুড়িয়াপট্টির লোকনাথ বস্ত্র বিতানের মালিক পবিত্র হালদার বলেন, এবারও নারীদের পছন্দের চাহিদায় ভারতীয় সিরিয়ালের নাম অনুসারে বেশ কিছু পোশাক বাজারে এসেছে। তবে তীব্র গরমের কারণে টিস্যু কাপড় এবং পাতলা পোশাকের চাহিদা বেশি। এছাড়া গাউন, কোটি, ওয়ান পিসের চাহিদা রয়েছে।

ব্যবসায়ী আশরাব খান বলেন, সন্ধ্যার দিকে মার্কেটে ঢোকা মুশকিল হয়ে যায়। তাই আগেভাগে কেনাকাটা করতে এসেছি। অনেক গরম পড়েছে, তাই মেয়ের জন্য পোশাক কিনতে আসলাম।

বরিশাল সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী সাইদ বলেন, আমার বাবা নেই। আছেন শুধু মা। আমি পড়ালেখার পাশাপাশি ছোট একটা চাকরি করি। রোজার তিন মাস আগে থেকেই বেতন থেকে কিছু টাকা আলাদা করে রেখেছি। আমি মায়ের জন্য মার্কেট করবো। তাই ঈদের আগেই মার্কেটে আসলাম কেনাকাটা করার জন্য। কারণ এখন দাম একটু কম এবং মার্কেটে ভিড়ও একটু কম।

এবার ঈদে যুবকরা পাঞ্জাবির পাশাপাশি জিন্স প্যান্টের প্রতি ঝুঁকছেন বেশি। মনোহরীপট্টির মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা লিজা আক্তার বলেন, দাম বেশি হলেও পোশাকগুলো মানসম্পন্ন। ঈদ যতো এগিয়ে আসছে, বাজারে ভিড় ততো বাড়ছে। তাই আগে থেকেই কেনাকাটা সেরে রাখলাম।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত