এই পাঁচ কারণে মোদির জয়ের পূর্বাভাস ভুল হতে পারে

লোকসভা নির্বাচনের বুথ ফেরত জরিপ প্রকাশের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাসি অট্টহাসিতে পরিণত হয়েছে। সবগুলো জরিপই তার দলের বিপুল জয়ের আভাস দিচ্ছে। ২০০৪ সালেও ঠিক এভাবেই বিজেপির জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল বুথ ফেরত জরিপগুলো। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেল উল্টো চিত্র। মাত্র ১৩৮ আসন জিতে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিলেন অটল বিহারি বাজপেয়ি। এবারেও কি তেমনটাই ঘটতে যাচ্ছে মোদির ভাগ্যে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভারতজুড়ে।

একপক্ষ বলছে, সবগুলো জরিপ তো আর মিথ্যা হতে পারে না। তাই মোদির জয় নিশ্চিত। আবার আরেক পক্ষ জানাচ্ছে, সব জরিপ ভুল হওয়ার বহু উদাহরণ দেশ-বিদেশ সবখানেই আছে। বিশ্লেষকরাও বলছেন, যে বুথ ফেরত জরিপ আজ মোদির হাসি চওড়া করছে, সেই জরিপই তার হাসি কেড়ে নিতে পারে।

আগামীকাল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে। কিন্তু এর আগেই মোদি-অমিত শাহ জুটি জরিপের ওপর আস্থা রেখে আনন্দ উৎসব শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে যদি দেখা যায় যে, জরিপ একেবারেই ভুল তথ্য দিয়েছে, তাহলে গেরুয়া শিবিরের আনন্দ উৎসব নিশ্চিতভাবেই শোকসভায় রূপ নেবে। এমন আশঙ্কার কথাই জানাচ্ছেন অনেক পর্যবেক্ষক। তারা বলছেন মূলত পাঁচটি কারণে ভুল তথ্য দিতে পারে মোদির জয়ের পূর্বাভাস।

১. ভোটের তথ্য বলতে ভয়

বুথ ফেরত জরিপ এমন একটা জিনিস যেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রমাণ থাকে না। একজন মানুষ বুথ থেকে বের হয়ে যেমনটা বলেন সেটার ওপর ভিত্তি করেই আভাস দেয় জরিপকারী সংস্থাগুলো। ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়াতেই একটা প্রকোপ দেখা যায় যে, সংখ্যালঘিষ্ঠ মত ধারণকারীরা ভয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করে না। এই ভয়ের কারণেই জরিপের ফলাফলে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়।

২. জরিপের সীমাবদ্ধতা

ভারতে এবার মোট ভোটার ছিল প্রায় ৯০ কোটি। এদের মধ্যে যদি ৫০ কোটিও ভোট দিয়ে থাকে, তাদের সবার থেকে তথ্য নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাছাড়া সব শ্রেণী-পেশার মানুষের থেকে সঠিক তথ্য বের করে আনা কষ্টসাধ্য। জরিপকারী সংস্থাগুলো এই বিষয়টি স্বীকারও করছে। সুতরাং বুথ ফেরত জরিপ যে সঠিক হবে সেটা ভাবার কোনো কারণই নেই।

৩. বিজেপির ব্যাপক প্রচার

বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা এবার ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। পার্টি তহবিল থেকেও কাড়ি কাড়ি টাকা ব্যয় করা হয়েছে প্রচারণার পেছনে। বলা হচ্ছে, বিজেপি এবার ভোটে প্রচার-প্রচারণায় যত অর্থ ব্যয় করেছে তা গোটা এশিয়াতেই নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে এক রেকর্ড। তাছাড়া বিজেপি আইটি সেলও ভারতের সামাজিক মাধ্যম অনেকটা মোদিময় করে রেখেছিল। এ কারণে বিজেপিবিরোধী অনেকেই নিজেদের খুব একা ভাবছে। ভোটের যেকোনো আলাপ-আলোচনায় তারা নির্লিপ্ত থাকছে বলেও জানা গেছে। ফলে বুথফেরত জরিপে বিজেপির বিপুল জয় উঠে আসতে পারে।

৪. ম্রিয়মান কংগ্রেস

নির্বাচনের শুরু থেকেই বিজেপি যতটা আগ্রাসী ছিল, তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেস ছিল ততটাই ম্রিয়মান। প্রিয়াঙ্কা গান্ধি প্রচারে নেমে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা শক্তি সঞ্চার করতে পারলেও তার হাতে সময় ছিল খুবই কম। তাছাড়া তিনি শুরু থেকেই বলছিলেন যে, তার মূল লক্ষ্য ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচন। সবকিছু মিলিয়ে বিজেপি নির্বাচনী মাঠ যেভাবে গরম করেছে, কংগ্রেস তা পারেনি। এজন্য বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা যেভাবে গলা ফাটিয়েছে, কংগ্রেসের সমর্থকরা তা পারেনি।

৫. দেশপ্রেমের মাণদণ্ড বিজেপিকে ভোট

লন্ডনের কিংস কলেজের প্রভাষক ও সমাজ বিজ্ঞানী কামিনী গুপ্তা বলছেন, বিজেপির নেতারা এবারের ভোটকে দেশপ্রেমের মানদণ্ড হিসেবে হাজির করেছে। যারা মোদি ও বিজেপিকে ভোট দেবে না তাদের দেশবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করা হবে এমন একটা প্রচারণা চালানো হয়েছে। একারণে অনেকের মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে এটা বলতে সংকোচ তৈরি হয়েছে। এই সংকোচ থেকেও জরিপে অনেকে ভুল তথ্য দিয়েছে বলে জানাচ্ছেন পর্যবেক্ষরা।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত