ফেসবুকের লড়াই মাঠে, নিহত ১ ওসিসহ আহত ৩৫

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সুরমা নদীতে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাহাবুদ্দীন নামের একজন নিহত হয়েছেন। ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামালসহ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। তাদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ছাতক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখান থেকে ওসিসহ গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে ঘটনাস্থল অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ২৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযান চলছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে চাঁদাবাজি নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদশীরা জানায়, ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহিন চৌধুরী ও ছাতক পৌরসভার কাউন্সিলর তাপস চৌধুরী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীম আহমেদ চৌধুরীর মধ্যে সুনামগঞ্জের ছাতকের অংশের সুরমা নদীতে চাঁদাবাজি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে বেশ কিছু দিন ধরে। ছাতক পৌরসভার নয়জন কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে একটি সমিতির মাধ্যমে সুরমা নদীতে চাঁদার টাকা তুলেন। নদীতে চাঁদাবাজির ঘটনায় গত রোববার সুরমা নদীতে কাউন্সিলর তাপসের পক্ষের লোকজন চাঁদার টাকা তুলতে গেলে পুলিশ দুজনকে আটক করে। এনিয়ে শামীম আহমেদ চৌধুরীর লোকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কাউন্সিলর তাপসকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে লেখালেখি করেন।

এ নিয়ে শাহিন চৌধুরী কাউন্সিলর তাপসের পক্ষ নিয়ে পাল্টা জবাব দেন। ফেসবুকে গালাগালির জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে উভয়পক্ষ ছাতক পৌর শহরে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষ গোলাগুলি করে। এতে শাহাবুদ্দীন নামের একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল বাঁ পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় আরো এক পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধসহ ৫ পুলিশ আহত হয়েছেন।

ছাতক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদা আফসারিন জানান, নদীতে চাঁদাবাজি নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। আমরা পুলিশ প্রশাসনসহ ঘটনা সামাল দেয়ার চেষ্টা করছি। এতে বেশ কয়েকজন আহত হবার খবর পেয়েছি।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত