সাজাপ্রাপ্ত আসামি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুদান পাওয়ায় আওয়ামী লীগে ক্ষোভ

প্রতারণা, চাঁদাবাজি, অপহরণসহ ডজনখানিক মামলার পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণতহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা অনুদান পাওয়ায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই আসামী তার অপকর্ম গোপন রেখে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দলীয় প্রধান ও প্রধামন্ত্রীর কাছ থেকে অনুদান নিয়েছেন। অবিলম্বে অনুদানে চেকের কার্যকারিতাও বন্ধ করার দাবি জানান ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে গত ৩০ এপ্রিল ২০ লাখ টাকার অনুদানের চেক গ্রহণ করেন চকরিয়া পৌর এলাকার নুরু মিস্ত্রির পুত্র মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু। এলাকায় সন্ত্রাসী, মাস্তানি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কক্সবাজারের একাধিক থানা ও আদালতে অপহরণ, চাঁদবাজি ও প্রতারণাসহ অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, অধিকাংশই প্রতারণা মামলা। একটি মামলায় ১ বছর ৩ মাসের সাজা ও একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। সাজা ও পরোয়ানা দুটোই মাথায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে অনুদান গ্রহণ করে পল্টু।

মাতামুহুরী (সাংগঠনিক) উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এরফান চৌধুরী অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে অনুদানের চেক গ্রহীতা মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু আমার কাছ থেকে জমি দেয়ার কথা বলে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল, জমিও দেয়নি টাকাও দেয়নি, আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। যার মামলা নং ৩৬০/১২এ ই মামলায় তাকে ১ বছর ৩ মাস সাজা দিয়েছে আদালত। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কি করে প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে অনুদান নেয়?

চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল আলম জানান, মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু নির্যাতিত নন, একজন প্রতারক। সেইই আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া করেছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুদানপ্রাপ্ত মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর পুরো পরিবার ২০০৬ সালের আগে বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। স্থানীয় ডা. মো. হোছাইনের পরিবারের ৫ কানি জমি অবৈধভাবে জবরদখল করে রাখতে না পারায় আওয়ামী লীগে যোগ দেয়।

পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ফোরকানুল ইসলাম বলেন, মোজাফফর হোসেন পল্টুর নেতৃত্বে আমাকে হত্যার উদ্দেশে ২০০৮ সালে অপহরণ করা হয়েছিল, এ ঘটনায় তার পিতা নুরু মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে ওই মামলা বিচারাধীন। তিনি বলেন- মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু আওয়ামী লীগের জন্য বিষফোঁড়া। সে নামমাত্র আওয়ামী লীগ করে।

পল্টুর হাতে নানাভাবে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রদত্ত অনুদানের চেকের কার্যক্রম স্থগিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত