যেভাবে এড়াবেন হিট স্ট্রোক

সুস্থ অবস্থায় যে কোনও মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকে ৩৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের আশপাশে। অবশ্য ১ ডিগ্রি এদিক-ওদিক হতে পারে। এছাড়া শারীরিক অসুস্থতা, এক্সারসাইজ করার পরে তাপমাত্রার খানিক হেরফের হয়। এইসমস্ত শর্ত ছাড়াও রয়ে যায় পরিবেশের উত্তাপ। পরিবেশ উষ্ণ হতে শুরু করলে, শরীরেও তার প্রভাব পড়ে। ভারতীয় বর্তমান

তাপমাত্রা বাড়লে কী হয়: পরিবেশের তাপমাত্রা, স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় বাড়তে শুরু করলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। অস্বাস্তি বাড়ে, কোনও কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়। কায়িক শ্রমের প্রয়োজন হয় এমন কাজ করতে বেশ কষ্ট হয়। তাপমাত্রা যত বাড়ে ততই অন্যান্য গুরুতর সমস্যা হতে শুরু করে।

হিট স্ট্রোক : কোনও ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তুলনায় বেশি হলেই বিপদ। ওই ব্যক্তির হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। হিট স্ট্রোক ২ ধরনের হয়। ক্লাসিকাল এবং এক্সারশিওনাল।

ক্লাসিকাল হিট স্ট্রোক : দীর্ঘক্ষণ প্রবল রোদে উষ্ণ পরিবেশে ঘোরাঘুরি করার পরে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং ওই ব্যক্তি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। ক্লাসিকাল হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে আক্রান্তের দেহে ঘাম হয় খুব সামান্য অথবা ঘাম হয় না বললেই চলে। সাধারণত বাচ্চা এবং দীর্ঘস্থায়ী কোনও অসুখে ভুগছেন এমন মানুষের ক্ষেত্রে এই ধরনের হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

এক্সারশনাল হিট স্ট্রোক : আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে প্রবল ঘাম দেখা যায়। সাধারণত উষ্ণ পরিবেশে দীর্ঘসময় ধরে কায়িক শ্রম করার ফলে এই ধরনের হিট স্ট্রোক হয়। হিট স্ট্রোক খুব মারাত্মক ধরনের শারীরিক সমস্যা। বিশেষ করে ব্রেন, কিডনির ও হার্টের প্রবল ক্ষতি হয় হিট স্ট্রোকে।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ : দেহের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকে। ত্বকের রং লাল হয়ে যেতে পারে। যন্ত্রণার চোটে মাথা দপদপ করে। রোগীর আচরণে পরিবর্তন হয়। রোগীকে দিশেহারা লাগে। প্রচণ্ড উৎকণ্ঠা দেখা দেয় রোগীর মধ্যে। কথা জড়িয়ে যায়। প্রলাপও বকতে পারেন। বমি হতে পারে। দেখা যেতে পারে খিঁচুনি, এমনকী রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন।

কী করবেন: ভর দুপুরে কোনও ব্যক্তি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে প্রথমেই তাকে বাঁচানোর জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ হিট স্ট্রোক হল আপৎকালীন পরিস্থিতি। ব্যবস্থা নিতে সামান্য দেরি হলে রোগীর প্রাণহানি ঘটা আশ্চর্য নয়। তাই—

 রোগীকে রোদ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে শীতল স্থান বা ছায়ায় শোওয়ান।

 যথাসম্ভব অতিরিক্ত জামাকাপড় খুলে দিন ।

 রোগীর দেহ শীতল করার জন্য গায়ে ঠান্ডা জল ঢালতে পারেন। খুব ভালো হয় কোনও বড় টবে ঠান্ডা জলে শুইয়ে দিতে পারলে। সঙ্গে ফ্যান চালিয়ে দিন। রোগীর মাথায়, ঘাড়ে, কানের নীচে, ভিজে তোয়ালে জড়িয়ে রাখুন। সারা গায়ে আইস প্যাক ঘষতে পারেন। একটু সুস্থ হলে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

অধিক উষ্ণতায় অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি যাদের

 স্থুলকায় মানুষের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যা হয়। ফলে গ্রীষ্মকালে মোটা মানুষের বেশি কষ্ট হয়।

 ৪৫ বছর এবং তার ঊর্ধ্বের বয়সের মানুষের। কারণ এই বয়সের পর থেকে শরীরে বিভিন্ন ধরনের অসুখ বাসা বাঁধতে শুরু করে। বিশেষ করে, শরীর ফিট না থাকলে তাপমাত্রার হেরফেরে খুবই কষ্ট হয়।

 হার্টের রোগ, হাঁপানি এবং ফুসফুসের অসুখ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপে ভোগা রোগীর ঝুঁকি বেশি।

 কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা তাপমাত্রার হেরফেরে বেশি কষ্ট পান।

গ্রীষ্মের সমস্যা থেকে বাঁচতে যা করবেন

 গরমের দিনে বাইরে বেরিয়ে কাজ করার থাকলে সকাল সকাল কাজ সারার চেষ্টা করুন। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত কোনও কাজ করতে যাবেন না।

 প্রহরে রোদে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হলে, সঙ্গে রাখুন ছাতা, জলের বোতল। খুব ভালো হয় বোতলে নুন চিনির জল গুলে নিয়ে যেতে পারলে। আরও ভালো হয় জলে ওআরএস গুলে নিয়ে গেলে। একলিটার জলে ১ প্যাকেট ওআরএস গুলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন।

 হালকা রঙের সুতির জামকাপড় পড়ুন যাতে ঘাম হলে সহজেই তা বাষ্পীভূত হতে পারে। বেশি জামাকাপড় পরে থাকা মানেই ঘাম বাষ্পীভূত হতে পারবে না। শরীর ঠান্ডাও হবে না।

 এখন সকলেই সানবার্নের শিকার হচ্ছেন। সানবার্ন হলে তা কিন্তু ত্বকের তাপনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিয়ে আনে। তাই রোদে বেরতে হলে সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন।

 এসি থেকে হুট করে উষ্ণ পরিবেশে বা উষ্ণ পরিবেশ থেকে হুট করে এসি-তে ঢুকবেন না। ছায়াঘেরা জায়গায় মিনিট দশেক দাঁড়িয়ে শরীরের উষ্ণতা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিন।

 গ্রীষ্মের সময় খোলা পার্কিং লটে বদ্ধ গাড়িতে বেশিক্ষণ থাকবেন না। বিশেষ করে বাচ্চা এবং বয়স্কদের এই পরিস্থিতিতে রাখা উচিত নয়। বদ্ধ গাড়ি খুব দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফলে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত