রশিদ খানের এমন আচরণ হতাশ করবে আপনাকেও

ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা।এটা সবারই জানা।তবুও মাঝে মধ্যে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে এই ভদ্র মঞ্চের আসরে।অনেক কিছু ধৈর্য সীমার মধ্যে থাকে। আবার কিছু সীমানা অতিক্রম করে।যেমন ধরেন, ভদ্রলোকদের খেলায় যখন ভদ্রলোকদের সাথেই বেয়াদবি করা হয় তখন সেটা খুব কষ্ট দেয় অন্তরে।তেমনি এক অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আফগানিস্তানের বিস্ময়-স্পিনার রশিদ খান।

ক্রিকেটবিশ্বে আফগান তরুণ রশিদ খানের আগমন বেশি দিনের নয়।তবে খুব অল্প সময় বেশ সুনাম কুঁড়িয়েছেন বছরের কুঁড়ির ছেলেটি।অল্প সময়ে সাফল্যের শিখরে পৌছেছেন ।বর্তমানে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের তালিকায় শীর্ষে আছেন।আর হয়ত এই কারনেই নিজেকে সামলে রাখতে পারছেন না তিনি।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে জন্ম নেয়ায় রশিদদের প্রতি সবার সহানুভূতি অন্যান্য ক্রিকেটারের ছেয়ে তুলনা মূলক বেশি।আর এ সুযোগে যদি মানুষের আবেগের জায়গায় আঘাত করে তাহলে ডাস্টবিনেই ছুঁড়বে সেই ভালোবাসার মানুষগুলোই। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ময়দানী লড়াইয়ে নেমেছে রশিদ খানের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।প্রথমে ব্যাটিং করে ধোনির চেন্নাইকে ১৭৬ রানের লক্ষ্য দেয় ওয়ার্নাররা।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ওপেনার ফাফ ডু প্লেসিসকে হারিয়ে বিপদে পড়ে চেন্নাই।তবে অপরপ্রান্তে থাকা ‘বুড়ো’ ওয়াটসন দলের হাল ধরেন।সতীর্থের বিদায় তিনি চেন্নাই সমর্থকদের বুঝতে দেননি।খেলেছেন ৫৩ বলে ৯৬ রানের অতি মানবীয় ইনিংস।আর তাতে হার নিশ্চিত হয় রশিদ-সাকিবদের।এদিন দারুণ কেলানি খেয়েছেন রশিদ খান।চার ওভার হাত ঘুরিয়ে ৪৪ রান খরচ করে শিকার করেছেন এক উইকেট।

ওয়াটসনের এমন হার না মানা ব্যাটিং তাণ্ডব মেনে নিতে পারছেন না বর্তমান সময়ের সেরা স্পিনার রশিদ খান।ছোট্ট রশিদ চোখ রাঙানি দেন আইকন ওয়াটসনকে। ক্রিকেটের যখন পূর্ণ যৌবন জোয়ার, ঠিক তখন রাশিদ খানরা ক্রিকেটে এসছেন।আর ওয়াটসন ক্রিকেটে এসেছেন ওই সময়, যখন ক্রিকেটে অনেক পূর্ণতাই অপূর্ণ ছিল। সেখান থেকে সব পূর্ণ করে যাত্রাটা লম্বা করে এখনও খেলে যাচ্ছেন। ওয়াটসনের মত ব্যাটসম্যানের সামনে এভাবে চোখ রাঙ্গানো অন্তত রশিদের মানায় না। এখানে ডেল স্টেইন- শোয়েব আকতার- মালিঙ্গা-মাশরাফিরা করলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু রাশিদ তো ওয়াটসনের সামনে ছোট্ট শিশুর মতো।

গেল এশিয়াকাপের আসরেও পাকিস্তানের বিপক্ষে অসভ্যতা প্রকাশ করেছেন রশিদ।যার কারণে শাস্তিও ঝুটেছে এই তরুণের কপালে।কিন্তু রশিদ নিজেকে এতটুকুনও বদলায়নি! একজন স্পোর্টস রিপোর্টার হিসেবে প্রায়সই রশিদের আচরণের প্রতি আমি নজর রাখি।কিন্তু রশিদ খানের চেহারার ভঙ্গীতে অনেকটা হিংস্রতার মনোভব রয়েছে।হয়ত আপনারাও ভালো করে মনোনীবেশ করলে বিষয়টা উপলব্দি করতে পারবেন।

আফগান বিস্ময় বালককে মনে রাখতে হবে, ক্রিকেটাঙ্গনে যারা ভদ্র ছিলেন তাদের জন্য ভক্তরা কেঁদেছেন। রিকি পন্টিং- গিলক্রিষ্ট- গ্রায়েম স্মিথ- ভিলিয়ার্স- কুক এরা ক্রিকেটে কতটা রাজত্ব করেছেন।তাদের বিদায়ে ভক্তরা আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। এই তো গত বছর আচমকা ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স।প্রিয়জনের বিদায় মেনে নিতে পারেননি ভক্ত-সমর্থকরা।সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা লেখাই শুধু বাসছে ‘এবি ফিরে এসো।’

ওয়াটসনের মতো কিংবদন্তিদের সামনে রাশিদ তো এখনো ক্রিকেট প্রাসাদের চাকর হিসেবেও জয়েন করেনি। রশিদকে মনে রাখতে হবে তার চেয়ে এই উপমহাদেশে অশ্বিন কম ভয়ংকর ছিলেন না! সেই অশ্বিনকে ছাড়াও কিন্তু ভারত দল সাজিয়েছে। সুতরাং; সময়ের কারণে স্থান ভুলে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।সম্মানিত ক্যক্তিকে সম্মান না করলে নিজের সম্মানের ছিটে ফোটাও খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে।

রশিদকে নজর রাখতে হবে ভারতের নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলির দিকে।বর্তমান সময়ে ক্রিকেটের অবিসংবাদিত সম্রাট এতে কোনো সন্দেহ নেই।একের পর এক রেকর্ড বাঙছেন, নতুন রেকর্ড গড়ছেন।কিন্তু সেই কোহলি নিজের বাচন ভঙ্গির কারণে ক্রিকেটপ্রেমীদের মণিকোঠায় স্থান করে নিতে পারেনি। সো রশিদ, বি কেয়ারফুল! ওয়াটসন যে অতি ভদ্র খেলোয়াড় এটা ভাবার কোন অবকাশ নেই।বিশ্বক্রিকেটে যতজন ভদ্র খেলোয়াড় আছেন তাদের মধ্যে ওয়াটসন অন্যতম।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত