বিএনপি ছিলাম তাতে কী হয়েছে?

সম্প্রতি উন্নত চিকিৎসা জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা অনুদান গ্রহণ করেন আহমেদ শরীফ। অনুদান গ্রহণ করার পর থেকে তাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছিলো। অনেকে বলছিলেন তার অনেক টাকা পয়সা ও হাউসিং ব্যবসা রয়েছে।
অনেকে দাবি করছেন, আহমেদ শরীফ এক সময় বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৩ সালে খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের একটি অনুষ্ঠানে ইতিহাস বিকৃত ও বঙ্গবন্ধুবিদ্বেষী বক্তব্যও দিয়েছেন। আবার অনেকে বলেছিলেন স্বাধীনতা বিরোধী লোকটিকে কেনও প্রধানমন্ত্রী অনুদান দিলেন তা নিয়ে বেশ মাথা ব্যাথা দেখা গেছে সামাজিক মাধমে।

বিষয়টি নিয়ে প্রথমে মুখ না খুললেও তা পরবর্তীতে তিনি গণমাধ্যমে মুখ খোলেন। তিনি জানান, এক সময় তিনি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাতে কী হয়েছে? তাও বহু বছর আগের কথা। ১৯৯১ সালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, ৩ আসন থেকে বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। আবার দলের সিদ্ধান্তে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর বিএনপি থেকে আমি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি।’
বিএনপির রাজনীতি করার বিষয়টি স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে ২০০৩ সালে খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের অনুষ্ঠানে ইতিহাস বিকৃত ও বঙ্গবন্ধুবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন আহমেদ শরীফ।

অনুদান গ্রহণ করা নিয়ে আহমেদ শরীফ  জানান, মূলত আমার বয়সের কারণে দীর্ঘদিনধরে অসুস্থ হয়েছি। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারছি না। ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন নিয়ে আমার বেশকিছু সমস্যায় পড়েছি। কিছুদিন আগে, পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ার কারণে অস্ত্রোপচারও করেছি। যার জন্য উন্নত চিকিৎসা দরকার। আর এ কারণে আমি সরকারের কাছ থেকে অনুদান নিয়েছি।

আহমেদ শরীফ আরও বলেন, ‘আমার বয়স এখন ৭৪ বছর। এই বয়সে কে কতটা সুস্থ থাকতে পারেন তা আপনিও ভালো জানেন। এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারি না। দনের বেশির ভাগ সময় ঘরে শুয়ে-বসে কাটাতে হয়। চিকিৎসার অভাবে আমার স্ত্রীর চোখটাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমার একটি মেয়ে আফিয়া মোবাসসিরা মৌরি। তাদেরকে নিয়ে খুব কষ্টে দিনগুলো কাটছে আমার।’

উল্লেখ্য, আহমেদ শরীফে একজন বাংলাদেশি খল অভিনেতা । সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ সিনেমার মাধ্যমে পর্দায় নায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ১৯৭৬ সালে দেলোওয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘বন্দুক’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রথম খলনায়ক এর ভূমিকায় অভিনয় করেন। প্রায় আট শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করা এ অভিনেতা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি আহমেদ শরীফ টেলিভিশনের জন্য কিছু নাটক-টেলিফিল্ম পরিচালনা করেন।

তার উল্লেযোগ্য সিনেমার মধ্যে আছে, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘ক্ষতিপূরণ,’ ‘মহানায়ক,’ ‘শাস্তি,’ ‘বাদশাসহ অসংখ্য সিনেমায় তিনি সুনাম কুড়িয়েছেন।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত