লিটন-সৌম্যরা কি ইমরুলের চেয়েও এগিয়ে

বিশ্বকাপের গত দুই আসরে খেলেছেন ইমরুল কায়েস। সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলেও ছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে প্রায় এক যুগ ধরে ক্রিকেট খেলে যাওয়া অভিজ্ঞ এই ওপেনারকে বাদ রেখেই মঙ্গলবার বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

ইমরুল কায়েসের পরিবর্তে যে দুজনকে দলে নেয়া হয়েছে তারা কি আদৌ কায়েসের চেয়ে বেটার? ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই প্রশ্নের উত্তরে ইয়েস অর নট, দুইটার কোনো একটা হতে পারে। তবে সেই উত্তর খোঁজার আগে একটু পরিসংখ্যান দেখে নেয়া যাক!

ইমরুল কায়েস সবশেষ পাঁচ ওয়ানডেতে দুই সেঞ্চুরি এবং একটি ফিফটিতে ৭০.৬ গড়ে ৩৫৩ রান করেন।

লিটন কুমার দাস সবশেষ পাঁচটি ওয়ানডেতে মাত্র ২৫ রান করেন। অন্যদিকে সৌম্য সরকার শেষ পাঁচ ওয়ানডেতে একটি ফিফটির সাহায্যে ২৭.৬ গড়ে মাত্র ১৩৮ রান করেন।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের হয়তো অনেকেই বলবেন বিদেশের কন্ডিশনে ইমরুলের চেয়ে লিটন-সৌম্যরা তুলনামূলক ভালো খেলে। তবে দেশের বাইরের তিনজনের খেলা সবশেষ পাঁচ ওয়ানডের পরিসংখ্যান দেখে নেয়া যাক।

ইমরুল কায়েস দেশের বাইরে সবশেষ পাঁচ ম্যাচে দুই ফিফটিতে ৩০.৪ গড়ে ১৫২ রান করেন।

লিটন কুমার দাস বিদেশের মাঠে সবশেষ পাঁচ ম্যাচে এক সেঞ্চুরিতে ২৬ গড়ে ১৩০ রান করেন। অন্যদিকে সৌম্য সরকার ১৭ গড়ে মাত্র ৮৫ রান করেন।

এই তিন ক্রিকেটারের ওয়ানডে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান নিম্নরূপ।

ইমরুল কায়েস

জাতীয় দলের হয়ে ৭৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৩২.০২ গড়ে চার সেঞ্চুরি এবং ১৬টি ফিফটির সাহায্যে ২ হাজার ৪৩৪ রান করেন। স্ট্রাইকরেট ৭১.১০।

লিটন দাস

২৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ১৯.৫৩ গড়ে এক সেঞ্চুরি এবং সমান ফিফটিতে করেন ৫০৮ রান। স্ট্রাইকরেট ৭৯.৭৪।

সৌম্য সরকার

৪১টি ওয়াডে ম্যাচ খেলে দুই সেঞ্চুরি এবং সাতটি ফিফটিতে ৩৪.৪৩ গড়ে ১ হাজার ২৭৪ রান করেন। স্ট্রাইকরেট ৯৮.৬০।

পরিসংখ্যানে স্পষ্ট তিনজনের তুলনায় পারফরম্যান্সে কে এগিয়ে। তবে বিশ্বকাপ দল থেকে ইমরুলের বাদপড়া নিয়ে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, ‘যেহেতু ওপেনিংয়ে তামিমের জায়গা পাকা। তাই তার সঙ্গী হিসেবে একজন ডানহাতিকেই নিতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।’

প্রধান নির্বাচক আরও বলেন, ‘যেহেতু ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ হচ্ছে, তাই আমরা অভিজ্ঞতাটাকে একটু বেশি মুল্যায়ন করেছি। এখানের কন্ডিশনটাও আমাদের এখানকার থেকে আলাদা। এক বছর আগে আমরা সেখানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলে এসেছিলাম। তো সেই অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করে আমাদের স্কোয়াড সাজানো হয়েছে।’

দল নির্বাচনে অভিজ্ঞার যদি সত্যিই মূল্যায়ন হয়ে থাকে তাহলে কেন বাদ পড়লেন ইমরুল! ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপ এমনকি ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ছিলেন ইমরুল। প্রায় একযুগ ধরে জাতীয় দলে খেলে যাওয়া এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে রাখা হয়েছে মাত্র ২৭ ও ৪১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা লিটন-সৌম্যকে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের নির্বাচিত আরও

৭ সেকেন্ডে গোল!

পাঠকের মতামত