জেলা হাসপাতালেই হবে গুরুত্বপূর্ণ রোগের চিকিৎসা: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ রোগের চিকিৎসাগুলো যাতে প্রত্যেকটি জেলা হাসপাতালে করা যেতে পারে তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গ্রামের ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। সেখানে মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা পাচ্ছে। প্রত্যেকটি উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসক পরিমাণ কম রয়েছে তা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ ও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইদানিং কিছু কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব একটু বেশী মাত্রায় দেখতে পাচ্ছি। সেজন্য ওই রোগগুলোর চিকিৎসা যেন দেশের প্রত্যেকটি জেলা হাসপাতালে করা যেতে পারে তার ব্যবস্থা নিচ্ছি। সবাইকে আরও স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে। কারণ কারও হার্ট ডিজিস, হঠাৎ স্ট্রোক হচ্ছে বা ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ দেখা দিচ্ছে। তাই, খাওয়া-দাওয়া চলাফেরার দিকে আরও সচেতন হওয়া দরকার।

সরকার চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল। আমরা স্বাস্থ্য তথ্য বাতায়ন করেছি। প্রতিটি উপজেলায় মোবাইল ফোন ও ওয়েব ক্যামেরার মাধ্যমে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা ঘরে বসে পেতে পারে সেই ব্যবস্থা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে অনলাইন সেবা ভবিষ্যতে আরও ভালভাবে দিতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা সেবায় ডাক্তার ও নার্সদের যত্নবান হতে হবে। বিশেষায়িত নার্স তৈরিতে দেশের বাইরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা দেশেও করা হোক। সারাদেশের হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধিসহ চিকিৎসক, নার্স ও সাপোর্টিং স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মেডিক্যাল শিক্ষার প্রসারে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশে হোমিওপ্যাথিক, ভেষজ ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ চিকিৎসায় বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, অটিজম ও নিউরো ডেভলপমেন্ট ডিজঅর্ডার বা প্রতিবন্ধী সন্তানদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছি। আগামীতে আরও বাড়াবো। আদমশুমারি রিপোর্টটা এলে আমরা সঠিক সংখ্যাটা জানতে পারবো। একটা শিশু জন্মের পর থেকে অটিজমের সিমট্রোম আছে কি না তা বাবা-মার খেয়াল করা উচিত। অভিভাবকরা যাতে শুরুতেই সচেতন হতে পারে এবং চিকিৎসা সেবা দেওয়া যেতে পারে এ ব্যাপারেও পদক্ষেপ নিচ্ছি। অটিজম বিষয়ে এখন যে সচেতনতা সৃষ্টিতে সায়মা এ ব্যাপারে যথেষ্ট অবদান রেখেছে। এই অবদান শুধু বাংলাদেশে না, আন্তর্জাতিকভাবে রয়েছে। এ সময় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সংগৃহীত সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও জিপগাড়ির চাবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমফ্লেক্সের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন। স্বাস্থ্য সেবার অধিকার শেখ হাসিনার অঙ্গীকার’ শীর্ষক স্লোগানে এবার ১৬ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ পালিত হবে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত