নুসরাত হত্যা নিয়ে এবার বেরিয়ে এলো আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য

সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন মামলার আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন। রোববার বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা এই দায় স্বীকার করেন। আদালতে ওই দুই আসামি প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে জবানবন্দি নির্দেশ। জবানবন্দিতে তারা খুনের পরিকল্পনা, হত্যা মিশন ও এ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য আদালতকে জানিয়েছেন।

গতকাল বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জবানবন্দি দেন আসামি নুর উদ্দিন। এরপর জবানবন্দি দেন আরেক আসামি শাহাদাত হোসেন। তার জবানবন্দি চলে রাত পৌনে ১টা পর্যন্ত। ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইন দুই আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এ ব্যাপারে মধ্যরাতেই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন) তাহেরুল হক চৌহান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, পিবিআই এ মামলার দায়িত্ব পাওয়ার চারদিনের মধ্যে (১০-১৪ এপ্রিল) ঘটনার মূল নায়ক যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আইনের মধ্যে থেকে বিজ্ঞ আদালতের কাছে তাদের হাজির করেছেন।

আদালত দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সিআরপিসির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। আসামিদ্বয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজ্ঞ আদালতের কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। আসামিদ্বয় পুরো বিষয় খোলাসা করেছেন। হত্যাকাণ্ডটি কারা ঘটিয়েছে, কীভাবে ঘটিয়েছে, কী প্রক্রিয়ায় ঘটিয়েছে বিস্তারিত বলেছেন। কিন্তু তা আপনাদের সামনে মামলার তদন্তের স্বার্থে পেশ করবো না।

তাহেরুল হক চৌহান বলেন, আসামিরা অপরাধ স্বীকার করেছেন। তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তারা জেলখানা (সিরাজ উদ দৌলা) থেকে হুকুম পেয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ১৩ জনের নাম এসেছে। এছাড়াও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু নাম এসেছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবো। হত্যাকান্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত যে চারজন তাদের সকলকে আমরা গ্রেফতার করতে পারিনি। দুইজন গ্রেফতার আছে, বাকি দুইজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। যেকোনো সময় আপনাদের একটি ভালো খবর দিতে পারবো।

এর আগে গত শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তকারী সংস্থা বলেছে, দুটি কারণে নুসরাতকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১. শ্লীলতাহানির মামলা করে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করিয়ে নুসরাত আলেম সমাজকে হেয় করেছেন। ২. আসামি শাহাদাত নুসরাতকে বারবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু নুসরাত তা গ্রহণ না করায় শাহাদাতও হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পিবিআই বলছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আরও অনেকের নাম উঠে আসতে পারে। তদন্তের কারণে কয়েকজনের নাম এখনই বলা হবে না।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১০ এপ্রিল (বুধবার) রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত