মালয়েশিয়ায় থেকে বাড়ি এলো সন্তানের লাশ, হাউমাউ করে কাঁদছেন বাবা

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত গোলাম মোস্তফার মরদেহ গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার উত্তর রাময়ানপুর গ্রামের বাড়িতে আনা হয়েছে। শনিবার বিকেলে আছরের নামাজের পর জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে শায়িত করা হয়েছে। এর আগে সকাল ১০টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।

গোলাম মোস্তফার মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে আনা হলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আদরের সন্তানকে হারিয়ে বাবা-মাতাসহ পরিবারের স্বজনরা বাকরুদ্ধ। কোনো সান্ত্বনাতেই কান্না থামানো যাচ্ছে না তাদের।

বৃদ্ধা বাবা নুর মোহাম্মদ মোল্লা সন্তানের কফিনের দিকে তাকিয়ে হাউমাউ করে কাঁদছেন। ঘরের মধ্যে কাঁদছেন মোস্তফার মা ও বোনেরা। তাদের আর্তনাদে কাঁদছেন প্রতিবেশীরা। এদিকে, শেষবারের মতো গোলাম মোস্তফার মরদেহ দেখতে এলাকার মানুষজন, সহপাঠী ও আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন। মোস্তফার বাবা-মায়ের কান্না দেখে কাঁদছেন তারাও।

নিহত গোলাম মোস্তফার বাবা নুর মোহাম্মদ বলেন, মাত্র ৯ মাস আগে গোলাম মোস্তফা পরিবারের জায়গা-জমি সাড়ে ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করে পরিবারের সবার সুখের কথা চিন্তা করে মালয়েশিয়ায় যায়। ৯ মাসে মাত্র ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে আমার কাছে। গত বছর মল্লিকা দিঘীরপাড় সিনিয়র মাদরাসা থেকে আলিম পাস করেছিল মোস্তফা। কোরআন হেফজ সম্পন্ন করেছিল সে। আমার চতুর্থ ছেলে গোলাম মোস্তফা। তাকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম।

এর আগে শুক্রবার রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গোলাম মোস্তফার মরদেহ গ্রহণ করেন তার বড় ভাই হাফেজ নুর উদ্দিন। নিহত গোলাম মোস্তফা নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার উত্তর রামনারায়পুরের নুর মোহাম্মদ মোল্লার চতুর্থ ছেলে। মালয়েশিয়ায় ৮ এপ্রিল রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১১ জনের মধ্যে একজন ছিলেন গোলাম মোস্তফা।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত