মোবাইলে ভাইবোনের সম্পর্ক, অতঃপর…

নাটোরের বড়াইগ্রাম থেকে অপহৃত শিশু সজিব আহমেদ বাবুকে (১০) মা-বাবার বুকে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

চার দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে সন্তানের সঙ্গে মা-বাবার মিলনের এ মুহূর্তে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। আবেগতাড়িত সন্তান ও মা-বাবার কান্নায় অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি উপস্থিত পুলিশ অফিসার ও সাংবাদিকরা।

এ সময় উদ্ধার হওয়া বাবুর স্বজনেরা নাটোর জেলা পুলিশ ও বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় নাটোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ জানানো হয়, বড়াইগ্রামের আগ্রাণ গ্রামের সেকেন্দার আলীর স্ত্রী সাহিদা বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভাইবোনের সম্পর্ক গড়ে তোলে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার রোহাবাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে ইশান আহমেদ সোহাগ (২৩)। দুই বন্ধু পাপলু ও শাজাহানকে সঙ্গে নিয়ে সোহাগ গত ৫ এপ্রিল সাহিদা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে আসে।

দুই দিন অবস্থানের পরে রোববার বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে সাহিদার ছোট ছেলে আগ্রাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র বাবুকে নিয়ে বের হয় তারা। পরে বাবুকে ফেরত পেতে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে সোহাগ।

এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা হলে পুলিশের একাধিক টিম দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে মুক্তিপণের জন্য প্রেরিত কিছু টাকা উঠানোর সময় নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করা হয় অপহরণকারী চক্রের সদস্য পাপলুর স্ত্রী নার্গিস আক্তারকে (২৫)।

এরপর জয়পুরহাট ও গাইবান্ধা জেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে অপহরণকারী চক্রের সদস্য শাজাহানের খালা মোছা. নূরজাহান (৪৮) এবং গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থানার চরভগবানপুর থেকে অপহৃত বাবুকে উদ্ধারসহ মূল অপহরণকারী সোহাগকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার হওয়া বাবুকে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন, বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত