সিরাজ উদ দৌলাকে দিয়েই এদেশে ধ’র্ষণের বিচার শুরু হোক

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি ও অগ্নিসংযোগ করে হত্যার দায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিচার দিয়েই এদেশে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার শুরু করার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে নুসরাতকে যৌন হয়রানি ও অগ্নিসংযোগ করে হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে তারা এ দাবি জানান। ‘সর্বস্তরের শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষও যোগ দেয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, নুসরাতকে যৌন হয়রানি ও অগ্নিদগ্ধ করে হত্যার প্রতি বিচারের দাবিতে সারাদেশে হাজারের মতো মানববন্ধন হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ ৫০-৬০ লোক উপস্থিত হয়। এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে হাজার মানববন্ধন করলেও কিছু হবে না। আমাদের সবাইকে একত্রিত হয়ে আন্দোলন করতে হবে।

এছাড়াও আমরা ফেসবুকে হাজারো স্ট্যাটাস দিয়ে ভাসিয়ে ফেলছি। শুধু ফেসবুকে প্রতিবাদ করলেই হবে না। এদেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সিরাজ উদ দৌলাকে দিয়েই এদেশে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার শুরু হোক।

সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফি আহমেদ বলেন, নুসরাতরা আজ এ দেশে বিচার পায় না। আর কত নুসরাতের অকাল মৃত্যু হলে হত্যাকারীদের বিচার হবে। নুসরাত-তনু-খাদিজারা আজও বিচার পায়নি। একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে। কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। আমরা নুসরাত হত্যার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড’, ‘নুসরাত মানেই বাংলাদেশ ইচ্ছামতো পুড়িয়ে দিন’, ‘তনুর বিচার হয় না বলেই নুসরাতরা পুড়ে মরে’, ‘পোশাক না ধর্ম না ধর্ষণের কারণ ধর্ষক’, ‘নুসরাত মেয়েটা মারা গেল রাষ্ট্র তুমি নীরব কেন?’, ‘বিচার ব্যবস্থা যেন দ্রৌপদীর শাড়ি’, ‘নুসরাতের দগ্ধ এই লাশের দাম কত?

১০ লাখ/২০ লাখ/৩০ লাখ?’, ‘বিচার চাইতে চাইতে আজ আমরা ক্লান্ত’ ইত্যাদি লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে। মানববন্ধন শেষে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।

এতে তার শরীরের ৮০ ভাগ পুড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দিন রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি মারা যান।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত