নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে যে সকল ওয়াদা করলেন নুসরাত

‘আমার মোবাইল ফোন আপনাদের জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে যেকোনো সময়ে আপনারা ফোন করুন। আমি আপনাদের পাশেই আছি। পাশেই থাকব।’ নির্বাচনী প্রচারে নেমে এভাবেই বললেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত জাহান। চলতি লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন নুসরত। পশ্চিমবঙ্গে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে তৃতীয় দফা ভোটের প্রচারে নামেন নুসরাত। মাথার ওপর চৈত্রের প্রখর রোদ, সেইসঙ্গে সুন্দরবনসংলগ্ন রায়মঙ্গল, বেতনি, কলাগাছি নদীর গরম লোনা হাওয়ার মধ্যেই কখনো স্থলপথে হেঁটে, আবার কখনও নৌপথে প্রচারের ঝড় তুললেন নুসরাত। কখনো নৌপথে লঞ্চ থেকে নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে, আবার কখনো মানুষের ভিড়ে ঠাসা সভাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি এই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছের জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলেন।

বসিরহাটের সন্দেশখালির মানুষের অনুরোধে গান গেয়ে খুশিও করলেন নুসরাত। গলা ছেড়ে নুসরত গাইলেন, ‘তোমায় হৃদ মাঝারে রাখব, ছেড়ে দেব না…।’ এবারের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেরা বাজি নুসরাত জাহান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত প্রার্থী নুসরত এদিন বলেন, ‘এর আগেও আমি এই বসিরহাটে এসেছি কাজের প্রয়োজনে।

কিন্তু এবারে বসিরহাটে এসে গ্রামবাংলার সহজ সরল ও অতি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে অন্য রকম অনুভূতি লাগছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। আমার বিশ্বাস, এই কেন্দ্র থেকে মানুষ আমাকে জয়ী করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্তিশালী করবেন।’ নুসরাত বলেন, ‘আমার কাজই প্রমাণ করে দেবে, আমি মানুষের জন্য কী করতে পারি। আমি সাধারণ মানুষের সেবা করতে চাই।’

প্রচারের ফাঁকে নদীর বুকে লঞ্চে বসেই দুপুরের খাবার সারলেন নুসরাত। গরমের মধ্যে মেপে মেপে খেলেন একমুঠ ভাত, সঙ্গে সামান্য কাঁচা আম দেওয়া টক ডাল, দু-চারটে আলুভাজা, ছোট্ট ছোট্ট চর্বি ছাড়া দুই টুকরো মাটন আর ছোট সাইজের বাগদা চিংড়ি। এ দিয়েই দুপুরের খাবার সারলেন তিনি। এরপর সামান্য বিশ্রাম নিলেন চলন্ত লঞ্চের মধ্যেই। তারপর ফের হাঁটাপথে শুরু করলেন প্রচার।

নুসরাত বললেন, ‘আমি এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হলে সুন্দরবনের মানুষের জন্য দ্রুত সব ব্যবস্থা নেব। এই এলাকায় যেসব কাজ বাকি, সেগুলো শেষ করার ব্যাপারে সবার আগে গুরুত্ব দেবো। এখন যেহেতু নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ রয়েছে, সেহেতু উন্নয়নের কোনো কাজ করা যাচ্ছে না। তবে ভোট শেষ হলেই মানুষের উন্নয়নের কাজ শুরু হবে। আমার দল তৃণমূল কংগ্রেস সব সময়ই মানুষের পাশে থাকে।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সুন্দরবনের মানুষ আজ যেমন দুই টাকা কিলো দরে চাল পাচ্ছেন, আমার বাড়ি প্রকল্পের বাড়ি পাচ্ছেন, খাদ্য সাথী, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, রুপশ্রী, খসবুজ সাথী, স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। তেমনি এই প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুলেছে নয়া দিগন্ত।’ জনপ্রিয় এই নায়িকা আরো বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হয়ে এসব উন্নয়নমুখী প্রকল্পগুলো আরো বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত