নিখোঁজের ১০ দিন পর মাটির নিচে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ

নিখোঁজের ১০ দিন পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ঝুট ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান চৌধুরী সেলিমের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে ফতুল্লা থানাধীন ভোলাইল এলাকায় একটি ঝুটের গুদামের মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদরের জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন একই এলাকার ঝুট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী, তাঁর গুদামের কর্মচারী ফয়সাল ও আলী মিয়া। এদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী ও ফয়সাল ফতুল্লা এলাকার এবং আলী মিয়া আড়াইহাজার উপজেলার বাসিন্দা।

নিহতের স্বজনরা জানায়, ৩১ মার্চ সকালে বাসা থেকে ব্যবসার কাজে বের হয়ে নিখোঁজ হন সেলিম। ওইদিন বেলা ১১টার দিকে স্ত্রী রেখা মোবাইল ফোনে তাঁর অবস্থান জানতে চাইলে তিনি ফতুল্লার পঞ্চবটিতে অবস্থিত ইস্টার্ন ব্যাংকে আছেন বলে জানান। এরপর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর ৬ এপ্রিল সেলিমের স্ত্রী রেখা ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, কিছুদিন আগে সেলিম বলেছিলেন, মোহাম্মদ আলী নামের এক ঝুট ব্যবসায়ীর কাছে তিনি দুই লাখ টাকা পেতেন। ওই টাকা ফেরত চাওয়ায় আলী তাঁকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। লেনদেনের বিষয়টি নিয়েই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তারা মনে করছে। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে স্বজনরা।

ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন আল আবেদ জানান, থানায় নিখোঁজের অভিযোগে করা সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে বুধবার বিকেলে ফতুল্লার ভোলাইল এলাকা থেকে মোহাম্মদ আলীর ঝুটের গুদামে অভিযান চালিয়ে কর্মচারী ফয়সালকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যমতে আটক করা হয় মোহাম্মদ আলীকে। এরপর আটক দুজনের দেখানো মতে মোহাম্মদ আলীর ঝুটের গুদামের মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় সেলিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান এসআই মামুন। ঝুট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর গুদামের কর্মচারী ফয়সাল বলেন, ‘আড়াইহাজারের মোহাম্মদ আলী ভাইয়ের সঙ্গে আমি ছিলাম। কালো করে আরেকটা লোক ছিল তারা রড দিয়ে বাড়ি দিয়ে মারছে (সেলিমকে)। আলী ভাইয়ের থেকে দুই লাখ টাকা পাইত, টাকা দিতে পারবে না দেখে মারছে।’

এদিকে বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ জানিয়েছে, পার্টনারশিপে ঝুটের ব্যবসা করতেন কামরুজ্জামান চৌধুরী সেলিম। ভোলাইলে ছিল তাঁদের ঝুটের গুদাম। এই গুদামেই পার্টনারের সঙ্গে পাওনা টাকা নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ব্যবসায়ী সেলিম। এর জের ধরে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের লক্ষ্যে মাটি খুঁড়ে তাতে চাপা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কেউ যেন কিছু বুঝতে না পারে সে জন্য মাটির ওপর দেওয়া হয় সিমেন্টের আস্তরণ। এমনকি সেই লাশের ওপর গত ১০ দিন ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন খুনিরা।

ফতুল্লা থানার এসআই মামুন আল আবেদ বলেন, ‘গত ৩১ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন সেলিম। স্ত্রী রেখা আক্তারের জিডির সূত্র ধরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফয়সালকে আটক করা হয়েছিল। মূলত তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সেলিম চৌধুরীর লাশটি উদ্ধার করা হয়। ৩১ মার্চ রাতেই সেলিমকে হত্যা করে লাশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি।’

ফয়সালের বরাত দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, গুদামটি সেলিমসহ তাঁর পার্টনারদের তত্ত্বাবধানে ছিল। ৩১ মার্চ পার্টনারদের কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাইতে ভোলাইলের গুদামে যান সেলিম। পরে টাকা নিয়ে বাক-বিতণ্ডায় সেলিমকে হত্যা করা হয়। ফতুল্লার বক্তাবলী কানাইনগর এলাকার বাসিন্দা সেলিম চৌধুরী। পরিবার পরিজন নিয়ে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত