নুরুদ্দিনকে ধরিয়ে দিতে যা বললেন ব্যারিস্টার সুমন

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নুরুদ্দিন। মামলার প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার অন্যতম সহযোগী এই নুরুদ্দিন। গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর গত ২৮ মার্চ অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে সোনাগাজী উপজেলা সদরে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে নুরুদ্দিন। পুলিশ নুরুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাকে ধরতে পারলেই ঘটনার আদ্যপান্ত সব বেরিয়ে আসবে বলে দাবি নিহত নুসরাতের বড় ভাইয়ের।

এদিকে নুরুদ্দিনকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে ধর্ষক অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে আয়েজিত নুরুদ্দিনের বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের বেশ কয়েকটি ছবিও যুক্ত করে দিয়েছেন। ব্যারিস্টার সুমন লিখেছেন-“এই লোকটার নাম নূরুদ্দিন। যৌন নিপীড়ক মাদ্রাসা শিক্ষক সিরাজুদ্দৌলা মুক্তি পরিষদের প্রধান। অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া মামলার অন্যতম আসামী। পুলিশ একে খুঁজছে। কোথাও ওর খোঁজ পেলে নিকটস্থ থানায় খবর দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিতে সহায়তা করুন। অনেক কিছুই তো ভাইরাল করি আমরা বুঝে না বুঝে। এই পশু গুলোকেও ভাইরাল করুন…।”.

অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত ওই মিছিলের একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে আসামি নূরউদ্দিনকে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। নুরউদ্দিন তার বক্তব্যে বলে— ‘আমাদের সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাহেবকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে পুলিশ বাহিনী অ্যারেস্ট করেছেন। প্রিন্সিপাল হুজুরকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া না হয়… এই সোনাগাজীর মাদ্রাসা থেকে শুধু ছাত্রলীগ তৈরি হয় না, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির তৈরি হয় না, এই মাদ্রাসা থেকে একজন আলেমও তৈরি হয়। এই সোনাগাজী মাদ্রাসার আলেমসহ সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি আমাদের প্রিন্সিপাল হুজুরকে মুক্তি দিতে হবে।’

আমাদের প্রিন্সিপাল হুজুরকে যদি নিঃশর্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি দেওয়া না হয়, তাহলে সোনাগাজী নয়, পুরো বাংলাদেশের আলেমসমাজ তাদের ছাড়বে না।’

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন দেওয়া হয়। বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত