নুসরাত হত্যায় ৫ দিনের রিমান্ডে আরও দুই আসামি

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের মামলার আরও দুই আসামিকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ এ আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন— নুসরাত হত্যায় গ্রেফতার অধ্যক্ষ এ এস এম সিরাজ উদ দৌলার শ্যালিকার মেয়ে উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেন। এ নিয়ে পৃথকভাবে এখন পর্যন্ত এই মামলার ৯ আসামিকে রিমান্ডে নিল পুলিশ।

কোর্ট ইনস্পেক্টর গোলাম জিলানী জানান, উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেনকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন ৭ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। বিচারক তাদের প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল একই আদালতে নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামকে ৫ দিন করে, পরের দিন ১০ এপ্রিল মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ এ এস এম সিরাজ উদ দৌলাকে ৭ দিন, একই মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন ও নুসরাতের সহপাঠী আরিফুল ইসলামকে ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপরে কাউকে মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে, ভবনের চারতলায় যান নুসরাত।

সেখানে মুখোশপরা ৪/৫ ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেন। অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল বোরকা পরা চারজনসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। পরে মামলার এজহার পরিবর্তন করে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়।

আগুন দেয়ার আগে গত ৭ এপ্রিল নুসরাতকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে পুলিশ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে। পরে তার মা শিরিন আক্তারের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা কারাগারে রয়েছেন।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত