মমতাকে বহনকারী হেলিকপ্টার পথ হারিয়েছিল বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বুধবার পথ হারিয়ে ফেলেছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহনকারী হেলিকপ্টার। এ সময় তিনি শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় যাচ্ছিলেন। এই যাত্রায় সময় লাগার কথা ২২ মিনিট। কিন্তু পাইলট পথ হারিয়ে ফেলায় তার চোপড়ায় পৌঁঁছাতে সময় লাগে ৫৫ মিনিট। তবে হেলিকপ্টারে পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকায় তাৎক্ষণিক কোনো বিপদ ঘটেনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, এর কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন। মুম্বইভিত্তিক যে কোম্পানি হেলিকপ্টার ভাড়া দিয়েছিল তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।

সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে হেলিকপ্টারটি স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫ মিনিটে শিলিগুড়ি থেকে উড্ডয়ন করে।
কিন্তু চোপড়ায় পৌঁছে দুপুর ২টায়। এতে ৩৩ মিনিট সময় বেশি লাগে। কারণ হিসেবে বলা হয়, অবতরণের স্থান বা ল্যান্ডিং স্পট খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন পাইলট।

এ বিষয়ে চোপড়ায় সমবেত জনতার উদ্দেশে মমতা বলেন, আপনাদের কাছে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার জন্য আমি দুঃখিত। কারণ, পাইলট ভেনু খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তিনি দিক হারিয়ে ফেলেছিলেন।

সূত্রগুলো বলেছেন, পাইলট ও ফ্লাইট পরিকল্পনাকারী টিম ফ্লাইটের গতিপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তারা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে এ সম্পর্কে অবহিত করে। এক্ষেত্রে নিকটবর্তী এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল আছে বাঘডোগ্রাতে। এর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে। সূত্র বলেছেন, কয়েক দফা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর পথ হারানো হেলিকপ্টারকে সঠিক পথের নির্দেশনা দেয়া হয়। তখন অবতরণের স্থান থেকে রঙিন ধোঁয়া ছোড়া হয় আকাশে, যাতে হেলিকপ্টারটি নিরাপদে অবতরণ করতে পারে।

এ বিষয়ে হেলিকপ্টারটি ভাড়া দেয়া মুম্বই ও নয়া দিল্লিতে অবস্থিত বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে টাইমস অব ইন্ডিয়া। তবে তারা কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত এমন একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার বলেছেন, পাইলট অবতরণের স্থান খুঁজে পান নি। তাই তাকে প্রায় ৩০ মিনিট আকাশে উড়তে হয়েছে। এ সময় হেলিকপ্টারে পর্যাপ্ত জ্বালানি ছিল। তাই তাৎক্ষণিক কোনো বিপদ ঘটে নি।

রাজ্যের পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রী গৌতম দেব বলেছেন, আমরা জানতে পেরেছি হেলিকপ্টারটি ভুল পথে বিহারের দিকে গিয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী আমাদেরকে নিশ্চিত করেছেন সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত