মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের মৃত্যুতে যা বলছে প্রতিবেশীরা

পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হেরে গেলো ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার গ্রামের বাড়িতে তৈরি হয়েছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। মা-বাবা, ভাইয়েরা না থাকলেও বাকি স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তারা।

৬ এপ্রিল ঘটনার পর নুসরাতকে হাসপাতালে নেয়ার পর বাড়িটি গত কয়েকদিন সুনশান নীরবতার মধ্যে থাকলে মৃত্যুর পর স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে এসে জড়ো হচ্ছেন। সবাই কাঁদছেন আর অপরাধীদের বিচার চাইছেন। রাফির বাড়িতে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় চলছে শোকের মাতম।

কাঁদতে কাঁদতে দাদা মাওলানা মোশারফ হোসেন বলছিলেন, নাতিন আমার অনেক কস্ট করেছে। সারা অঙ্গ পুড়ে গিয়ে আজ ৫টা দিন অমানুষিক কষ্ট করে আল্লাহর কাছে চলে গেছে। নাতিনকে আল্লাহ জান্নাত নসীব করুক। আমার নাতিনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

অপরদিকে ঢাকায় নুসরাতের মৃত্যুর খবর শুনে নির্বাক মা শিরিন আক্তার। নিথর হয়ে পড়ে আছেন হাসপাতালের বিছানায়। বাবা আবু মুসা কিছুক্ষণ পরপর হাউমাউ করে কেঁদে উঠছিলেন। বলছিলেন, ‘আহা! আমার মেয়ে বাঁচতে চেয়েছিল। ওরা আমার মেয়েকে আগুন দিয়ে পুড়ি মারল।’

ছোট ভাই রায়হানের বুকফাটা কান্না। মুখে কোনো কথা নেই তাঁর। বাবার সঙ্গে চেয়ারে বসে কাঁদছিলেন নুসরাতের বড় ভাই নোমান। কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। জ্ঞান ফেরার পর আবার কাঁদছেন।

এমন দৃশ্য দেখা যায় বুধবার (১০ এপ্রিল) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ(ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। মামুন হোসেন নামে নুসরাতের এক প্রতিবেশী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটিকে আমরা চিনি। আমাদের জানা মতে মেয়েটি শান্ত প্রকৃতির ছিলো। ওর এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।

সাইদুর ইসলাম নামের ষাটোর্ধ্ব আরেকজন জানান, নুসরাতের এমন ন্যাক্কারজনক হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে গ্রামবাসী। এ ঘটনায় দোষী সিরাজউদ্দৌলাসহ সবার বিচার চাই আমরা। আবদুস সাত্তার (৭০) নামের গ্রামের আরেকজন বলেন, আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমাদের নাতনি নুসরাত আর আমাদের মাঝে নেই।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত