নুসরাতের মৃত্যুতে শোক আর ক্ষোভে ভাসছে ফেসবুক

মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে হার মানল আগুনে ঝলসে দেয়া ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি । ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১০ এপ্রিল) বুধবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটে মারা যান।

নুসরাতের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শোক আর ক্ষোভে ভাসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। এমন নির্মম মৃত্যুর জন্য ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অনেকে।

গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর নুসরাতের (১৮) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। আগুনে হত্যাচেষ্টার পর নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত হয় মেডিকেল বোর্ড। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নুসরাতের মৃত্যুতে ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুকে এমবি মাহাদুর লিখেছেন, ‘‘এত বেস্ত হয়ে বিচার চায়ে কোন লাভ নাই, ৩ দিন পরে আর কোন বিচারের খোঁজ পাবেনা, তুমরা,,,,। এটাই বাংলাদেশ,,,, কেউ যদি নিজের বিচার নিজে করতে পার তাহলে পাবে,,, অযতা চিল্লায়া লাভ নাই,,।’’

জাহাঙ্গীর আলম মন্তব্য করেন, ‘‘বর্তমানে রাজনীতির দাপটে প্রতিহিংসা এবং নারী ধর্ষণকারী নির্যাতনকারী আক্রমণ হত্যা রেহায় পাচ্ছে না, দলের নাম নিয়ে মেয়েদের ইজ্জত নিয়ে লুটপাট চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কি করেন জনগণ জানতে চাই। কেন আইন প্রয়োগ বা কঠোর হন্ত বিচার হয়না। এক একটি জীবন নিয়ে তামাশা করার জায়গা যা ইচ্ছে তা করে বেড়াবে।’’

‘‘তোমার মৃত্যুর জন্য এই সমাজ ব্যবস্থা দায়ি আমিও সমাজের একজন আমাকে মাফ করে দিও। তোমার সাথে যে জঘন্য ঘটনা ঘটছে তার সুষ্ঠু বিচারের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব,’’ পরিতাপের সাথে লিখেছেন সম্রাট খান।

রাশেদুর রহমান রানা লিখেছেন, ‘‘এটার বিচার যদি না হয় তাহলে সত্যিকার অর্থেই দেশের বিচার ব্যবস্থার উপর ঘৃণা চলে আসবে।’’

সাংবাদিক রাসিব মোস্তফা ক্ষোভের সাথে লিখেছেন, ‘‘ওই জানোয়ারদের থাবা থেকে হয়তো নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু শেষ অবধি বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হেরে গেল আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফী।’’

‘‘যেই দেশে বিচার হয়না সে দেশে এমন বেবিচার হতেই থাকবে। এই নরপিশাস দের সবার সামনে শিরচ্ছেদ করলে আগামিতে এমন অপরাধ করতে ভয় পাবে’’ লিখেছেন ডেভিড।

উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরছান্দিয়া গ্রামের মাওলানা একেএম মানিকের মেয়ে। অভিযোগ আছে, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা এর আগে ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করে। এ কারণে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় মেয়েটির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা বর্তমানে ফেনী কারাগারে আছেন।

এদিকে, সোমবার (৮ এপ্রিল) দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তার সর্বশেষ স্বাস্থ্যের অবস্থা জানিয়ে কাগজপত্র পাঠানো হয়। মঙ্গলবার সকালে সেখানকার চিকিৎসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন ডা. সামন্তলাল সেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেয়েটির শারীরিক যে অবস্থা তাতে পাঁচ ঘণ্টা ফ্লাই করা খুবই রিস্কি বলে মনে করছেন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তাই এই মুহূর্তে মেয়েটিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া সম্ভব না।’

ফেসবুকে শোক জানিয়ে আমির হোসাইন লিটন লিখেছেন, ‘‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহ নুসরাতকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন, আর অপরাধীর কঠিন তম শাস্তি দাবি করছি।’’

আরমান পাটওয়ারী মন্তব্য করেন, ‘‘ফেসবুকে কয়েকদিন তুমুল প্রতিবাদের ঝড় হবে। কিছু মিথ্যা আশ্বাস, অতঃপর সবাই ভুলে যাবে। ততদিনে লুকিয়ে থাকা অন্যান্য পশু তার শিকার ঠিকই খুঁজে নিবে….সোনার বাংলায় খুনিদের কোন বিচার হয়না!’’

‘‘এই তামাশার দেশে কিছুই হবেনা ! এখন কিছুদিন ভণ্ডামি চলবে তারপরে সব ঠিক!যেদেশে প্রধানমন্ত্রী মহিলা, স্পিকার মহিলা, বিরোধী দলের নেত্রী মহিলা, সংসদের উপ নেতা মহিলা, বিচার বিভাগে অগণিত মহিলা, পুলিশে ও প্রশাসনের বড় জাগায় মহিলা সে দেশে এতো ধর্ষণ কেন?’’ ফেসবুকে এমনই প্রশ্ন তুলেছেন মতিউর রহমান।

এদিকে ফেসবুক ব্যবহারকারী অভি তাহসান বলেন, ‘‘মেয়েটি মাদ্রাসার ছাত্রী, বোরকা পড়ত, তাই তাকে আগুনের পোড়ানোর প্রতিবাদ করেনি নারীবাদী সংগঠনগুলো। মোমবাতি জ্বেলে শ্লোগান দেয়নি লাল টিপওয়ালা আপুগুলো।’’

অভির মতো জনি লিখেছেন, ‘‘নারীবাদী লোকগুলা সব ঘুম দিছে….টি-শাট পরা মেয়ের জন্ন্য অনেকই তাদের পাশে দারাইছে কিন্তু এখন কই গেছে তারা??হার নুসরাত মানে নাই…হার মানছে এ দেশের নিয়ম নীতি।’’

রাসুল আহমেদ লিখেছেন, ‘‘দেশে যদি আইন থাকে, যদি মানবতার ছিটেফোঁটা ও থেকে থাকে, মানুষ যদি অমানুষ হতে এখনো বাকি থাকে , তাহলে ঐ সমস্ত কুলাঙ্গারদের যারা আগুন লাগিয়ে নৃশংসতম ভাবে একটি মেয়েকে হত্যা করেছে, তাদের প্রত্যেকের ফাঁসির দাবিতে গর্জে উঠুন, দেশ বাঁচুক, ধর্ম বাঁচুক, মানবতা বাঁচুক, সমাজ নিষ্কলুষ হোক। মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত করি।’’

পার্থ ভট্টাচার্জ্য লিখেছেন, ‘‘প্রকাশ্য ব্রাশফায়ারে দেওয়ার অনুরোধ করছি।যেনো উদাহরন হয় থাকে, মানবরুপী দানবদের জন্য।’’

বিনায়ক পাল গনেশ মন্তব্য করেন, ‘‘মেয়েটি বাঁচতে চেয়েছিলো… মৃত্যুর এ সংবাদটা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের, অনেক বেদনার।’’ রিপনের মন্তব্য, ‘‘খবুই দুঃখজনক একটা বিষয়। এভাবে নরপিশাচদের হাতে আর কত প্রাণ গেলে দেশে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ হবে !!’’

আফেজা খাতুন লিখেছেন, নুসরাত মারা যায় নি, মারা গেল আমাদের বিবেক, নুসরাত বেঁচে গেল।’’

মামলা দায়ের

মাদ্রাসাছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনার তিনদিন পর থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার (৮ এপ্রিল) বিকালে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি করেন ভিকটিমের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান। মামলায় মুখোশধারী চারজন এবং তাদের সহযোগীদের আসামি করা হয়েছে।এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত মোট আটজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মাদ্রাসাছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনার তিনদিন পর থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার (৮ এপ্রিল) বিকালে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি করেন ভিকটিমের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান। মামলায় মুখোশধারী চারজন এবং তাদের সহযোগীদের আসামি করা হয়েছে।এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত মোট আটজনকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত