‘মোদির পকেট থেকে অর্থ জনগণের পকেটে ঢোকাব’

ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘আমি জনতার পক্ষে, মানুষের পক্ষে। মোদির পকেট থেকে অর্থ আমি জনগণের পকেটে ঢোকাব। এই কথা আমি দিয়ে যাচ্ছি। আমি একটা হিন্দুস্থান বানাতে চাই। সেই হিন্দুস্থানে কৃষক-মজুর, ধনী-গরিব, হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সবাই একসঙ্গে থাকবে। সবাই ন্যায় বিচার পাবে। কারও সঙ্গে অন্যায় হবে না।’

ভারতে প্রথম দফার লোকসভা নির্বাচনের প্রায় ১৬ ঘণ্টা আগে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে পা রেখে একযোগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

আজ বুধবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জের করনদীঘিতে প্রচারে এসে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘২০১৯ সালের ভোটে কংগ্রেসই মোদিকে হারিয়ে দিল্লিতে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কংগ্রেস নাকি বিজেপির সঙ্গে লড়াই করে না। তাহলে রাফাল নিয়ে কে লড়াই করছে? (মমতা এদিন উত্তরবঙ্গের চাপড়ার সভা থেকে এই অভিযোগ তুলেছিলেন)।’

রাহুল এদিন বলেন, ‘চৌকিদার এখন ভয়ে ভয়ে কথা বলেন। চৌকিদারের মনে ভয় আমরাই তৈরি করেছি। একমাত্র কংগ্রেসই ভারতের মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করে। ভারতের গত ৭০ বছরের ইতিহাসে কংগ্রেস কোনো দিন বিজেপির সঙ্গে জোট করেনি। অথচ এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজেপির সঙ্গে জোট করেছিলেন।’

রাহুল বলেন, ‘ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, রাফাল মামলায় দুর্নীতি হয়েছে। আসলে কিছু না কিছু তো নিশ্চয়ই হয়েছে। চৌকিদার এখন ভয় পেয়েছে। চেহারা শুকিয়ে গেছে। দেশের দিকে চোখ তুলে আর তাকাতে পারে না। কংগ্রেস নির্বাচনে জিতে এসে রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে তদন্ত করবে। যারা মানুষের টাকা লুট করেছে তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না।’

রাহুল আরো বলেন, ‘মোদি আজ দুটো ভারত বানাতে চাইছেন। একটা ভারত হবে আম্বানিদের, আর একটা ভারত হবে গরিব মানুষদের। আমি সেটা হতে দেব না। চৌকিদার যেখানেই যান, সেখানেই মিথ্যা কথা বলেন। নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ভারতের সবার ব্যাংকে ১৫ লাখ করে রুপি দেবেন। কিন্তু দেননি। আমরা বলেছি, ভারতের গরিবদের আর্থিক সাহায্য করব। যাদের আয় ১২ হাজার টাকার নিচে তারা ন্যায় প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে ৭২ হাজার করে রুপি পাবেন। আমরা বলেছি, কোনো কৃষক ঋণ শোধ করতে না পারলে জেলে যেতে হবে না।’

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত